Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া শহর: জল সরবরাহ স্বাভাবিকই করতে পারল না পিএইচই

শনিবারও বাঁকুড়া শহরে জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারল না জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর(পিএইচই)। ফলে গত তিনদিন ধরে নির্জলা থাকল জেলা সদর শহর। পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে শহরবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

বাঁকুড়া শহর: জল সরবরাহ স্বাভাবিকই করতে পারল না পিএইচই
  • ২২ জুন, ২০২৫ ১৫:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শনিবারও বাঁকুড়া শহরে জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারল না জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর(পিএইচই)। ফলে গত তিনদিন ধরে নির্জলা থাকল জেলা সদর শহর। পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে শহরবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এদিন বাঁকুড়া পুরসভা নিজস্ব পাম্পিং হাউস থেকে জল সরবরাহ করলেও তা ঘোলা ছিল। পানের অযোগ্য ওই জল বাসিন্দারা নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার তরফে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রথমদিন থেকেই পিএইচই কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে চলেছে বলে পুরসভার অভিযোগ। যদিও পিএইচইর কর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্গাপুর ব্যারাজের ইনটেক পয়েন্টে কচুরিপানা জমে যাওয়াকেই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন। 

Advertisement

বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে পিএইচই কর্তৃপক্ষ আমাদের জল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শহরে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। শহর সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরসভার পাম্পে ঘোলা জল উঠছে। সেই কারণে ওই জল অনেকেই খেতে পারছেন না। পিএইচইর বড়জোড়া প্রকল্পের জল যাতে আমরা পাই, তা দেখার জন্য আমি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে আবেদন করেছি। পিএইচইর বাঁকুড়া ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ঋতম ভট্টাচার্য বলেন, ব্যারাজের ইনটেক পয়েন্টে কচুরিপানা জমে যাওয়ায় জল তুলতে সমস্যা হচ্ছে। পুরো সময়ের জন্য মেশিন চালিয়েও মোট ক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি জল সরবরাহ করতে পারছি না। তারফলে শহরে জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(বিপর্যয় মোকাবিলা) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, পানীয় জল সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যার কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পিএইচইর বড়জোড়া প্রকল্প থেকে প্রতিদিন বাঁকুড়া শহরে দেড় কোটি লিটার জল সরবরাহ করা হয়। মাঝরাত থেকে ভোরের মধ্যে পুরসভার রিজার্ভারে ওই জল এসে জমা হয়। সেখান থেকে পুর কর্তৃপক্ষ শহরের ২৪টি ওয়ার্ডে সকাল থেকে সরবরাহ করে। আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ভরসায় বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দারা থাকেন। ফলে টানা তিনদিন জল না পেয়ে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শহরের বাসিন্দা মিঠু মণ্ডল, করবী সেন বলেন, আমরা পিএইচইর সরবরাহ করা জল পান করি। একদিন জল না পেলেই সমস্যা হয়। পরপর তিনদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ