নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মঙ্গলবার দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জল থইথই অবস্থা হয় বাঁকুড়া শহরের। এদিন শহরের সতীঘাট এলাকায় বাইপাসে জল জমে যায়। নিকাশি নালা উপচে জল রাস্তায় গিয়ে পড়ে। রাস্তাজুড়ে প্রবল স্রোতে জল বইতে থাকে। তার ফলে যান চলাচলে সমস্যা হয়। শহরের একাধিক ওয়ার্ডও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। খোদ পুর চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারের বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। জল জমে থাকায় শহরের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বাঁকুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তা মূলত দুপুরের দিকে এক ঘণ্টার মধ্যেই হয়েছে। সকাল বা বিকেলে বাঁকুড়া শহর ও আশপাশে তেমন বৃষ্টি হয়নি।
চেয়ারম্যান বলেন, এদিন দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তার ফলে নিকাশি নালা ওই জল টানতে পারেনি। নালা উপচে জল রাস্তায় উঠে যায়। এদিন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির শিবির ছিল। সেখানেও জল জমে যায়। আমাকে একহাঁটু জল পেরিয়ে শিবিরে পৌঁছতে হয়। আমার পাড়াও জলমগ্ন হয়েছে। এদিন বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর শহরে এভাবে জল জমতে দেখলাম। প্লাস্টিক, বাড়ি ও দোকানের বর্জ্য ফেলার কারণে নিকাশি নালা বুজে যাচ্ছে। ফলে ভালোভাবে জল নিকাশি হতে পারছে না। সেই কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। স্কুটি চালক মৌসুমি সেন বলেন, ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে সতীঘাট হয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। সতীঘাট বাইপাসে ড্রেন ও রাস্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। ডিভাইডারও জলে ঢুবে যায়। তার ফলে স্কুটি চালাতে খুবই সমস্যা হয়। নিকাশি নালা পরিষ্কারের ব্যাপারে পুরসভার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, গত তিনদিন বাঁকুড়ায় সেভাবে বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে সতীঘাট বাইপাস সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীতে তেমন জল ছিল না। শহরের নিকাশি নালার জল সহজেই নদীতে গিয়ে পড়ার কথা। কিন্তু, প্ল্যাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ও জলের বোতলে নালার মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদী পর্যন্ত জল পৌঁছতেই অনেক সময় লেগে যায়। সেই কারণে রাস্তাঘাট ও ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে।