নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ২০২২ সালের প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ-আন্দোলনে মঙ্গলবার বাঁকুড়া শহর উত্তাল হল। দ্রুত নিয়োগের দাবিতে এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ টেট উত্তীর্ণরা শহরে মিছিল করেন। তাঁরা মাচানতলায় রাস্তা অবরোধ করেন। পরে তাঁরা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (ডিপিএসসি) অফিসের সামনে নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ঢোকার গেট বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ ধরে চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যানকে অফিস থেকে বের হয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি জানান। দাবি না মেটা পর্যন্ত অবস্থান-বিক্ষোভ চলবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন। খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছন। বিকেলে র্যাফও নামানো হয়। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকায় চাকরিপ্রার্থীর এদিনের মতো আন্দোলন তুলে নেন।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা বলেন, এদিন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে ৮-১০ জনের প্রতিনিধি দলকে দেখা করার জন্য আমি ডেকেছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার চেম্বারে আসতে অস্বীকার করেন। পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে শুভ্রাংশু ঘোষাল বলেন, ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যান অফিস থেকে বের হয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। পুলিশ আধিকারিকরা ওই সময় র্যাফ নিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলেন। ফলে আমরা আন্দোলন এদিনের মতো স্থগিত করেছি। তবে, আমরা রাস্তাতেই রয়েছি। ফের ডিপিএসসি অভিযানের ডাক দেওয়া হবে।
টেট উত্তীর্ণ ৪০ ছুঁই ছুঁই মণিকা প্রামাণিক দত্ত বলেন, ২০১৪ ও ২০২২ সালের দু’টি টেটেই আমি পাশ করেছি। প্রথমবার চাকরি হয়নি। এবারও বয়স পার হতে চলল। আমারা এতদিন ধরে অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি। দ্রুত নিয়োগ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।
শিক্ষাদপ্তর ও আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২২ সালের শেষ দিকে পরীক্ষা হয়। পরের বছর ফলাফল বের হয়। বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ৩৫০০ জন টেট উত্তীর্ণ রয়েছেন। শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে তাঁরা এর আগেও আন্দোলন করেছেন। এদিনের আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষ নাকাল হন। নানা কাজ নিয়ে কালেক্টরেট চত্বরে আসা অনেকে আন্দোলনের জেরে আটকে পড়েন। আন্দোলনকারীরা গেট বন্ধ রাখায় তাঁরা নাস্তানাবুদ হন। প্রথম দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখায়। যদিও দুপুর গড়াতে পুলিশ ক্রমশ কঠোর হয়। পুলিশ ‘অ্যাকশন’ মুডে যাওয়ায় আন্দোলনকারীরা কিছুটা দমে যান। সেইসঙ্গে প্রকৃতিও তাঁদের প্রতি নির্দয় হয়ে ওঠে। ফলে আন্দোলন তুলে নেওয়া হয়। এক আন্দোলনকারী বলেন, সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে আমাদের দিকটাও দেখতে হবে। বেকারত্বের জ্বালায় আমরা পথে নেমেছি। আন্দোলন না করলে সরকার আমাদের পাত্তা দেবে না। এদিনের অমাদের আন্দোলন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণই ছিল। টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র