নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া জেলা সফরের আগে পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়জোড়ায় দলীয় সভা করবেন। শুক্রবার বিকেলে ওই সভার প্রস্তুতিতে আগাম সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বড়জোড়ার বীরসিংপুরের সভাস্থলেই চেয়ার পেতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অর্চিতা বিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক ওই বৈঠক পরিচালনা করেন।
সাংসদ বলেন, এদিন সভাস্থল ও হেলিপ্যাডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে। বাঁকুড়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় পশ্চিম বর্ধমানের দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও উপস্থিত থাকবেন। এদিনের বৈঠকে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উপস্থিত থেকে পড়শি জেলা থেকে কোন পথে কত লোক আসবেন, সেব্যাপারে আমাদের বিস্তারিত জানান। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত’র সঙ্গে সেখানকার দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে এদিন আমরা আলোচনা করেছি।
অলোকবাবু বলেন, বড়জোড়ার মানচর এলাকায় বহু উদ্বাস্তু বাস করেন। মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্তরা এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁরা মানাচরে প্রতিবাদ মিছিলও করেছেন। দলনেত্রী ও আমরা মতুয়াদের পাশে রয়েছি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও আমরা মতুয়াদের সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরব। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো আমরা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেছি। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলনেত্রী বাঁকুড়া বড় কোনও জনসভা করেননি। ফলে ভোটের দেড় বছরের মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের দিকে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকিয়ে রয়েছেন। বিধানসভা ভোটের আগে দলনেত্রীর ওই সভাকে তৃণমূল শক্তি প্রদর্শনের ময়দান হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া সদর ও বিষ্ণুপুর মহকুমার মধ্যে একমাত্র বড়জোড়া আসনে শাসক দল জয় পেয়েছিল। আশপাশের সব বিধানসভা কেন্দ্রেই শাসক দলের ফল খারাপ হয়েছিল। ফলে বড়জোড়াকে ঘাঁটি করেই এবার তৃণমূল ভোটযুদ্ধে নামতে চলেছে। বড়জোড়ার সভায় এক লক্ষ লোক জড়ো করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক সংলগ্ন বীরসিংহপুরের ওই মাঠ আকারে অনেক বড়। যোগাযোগের দিক থেকেও অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে মাঠটি রয়েছে। ফলে সেটিই মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অরূপবাবুরা জানিয়েছেন।