নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জামতাড়া গ্যাংয়ের টাকা ‘পার্ক’ করার জন্য অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়া এবং সেই টাকা হাওলার মাধ্যমে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে নেমে চক্রের মূল মাথা সৈয়দ জুনায়েদ জীবকে গ্রেপ্তার করেছে বালিগঞ্জ থানা। ধৃতের বাড়ি কড়েয়া এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সঙ্গে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় জামতাড়া গ্যাংয়ের জালিয়াতদের। তারপর থেকে কমিশনের বিনিময়ে এই কাজ করছিল সে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের তরফে কলকাতা পুলিশকে জানানো হয়, সাইবার জালিয়াতির টাকা কলকাতার ১৩টি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। ব্যাংকগুলি বালিগঞ্জ, কড়েয়া এলাকার। টাকা এসেছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে। এর মধ্যে রয়েছে জামতাড়াও। বিভিন্ন রাজ্যে ঘটে যাওয়া সাইবার জালিয়াতির টাকা এসেছে জামতাড়া গ্যাংয়ের অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকে টাকা ‘ট্রান্সফার’ করা হয়েছে কলকাতায়। এর ভিত্তিতে বালিগঞ্জ থানার এক অফিসারের সুয়োমোটো অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে ১৯ সেপ্টেম্বর মামলা রুজু করে বালিগঞ্জ থানা।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই অ্যাকাউন্টগুলি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জুনায়েদের নাম পায়। দেখা যায়, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা এসেছে। এই টাকা আবার বালিগঞ্জ এলাকার একটি এটিএম থেকে বেশ কয়েক ধাপে তোলা হয়েছে। ওই এটিএম কাউন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেখান থেকে জুনায়েদকে চিহ্নিত করা হয়। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তের ঠিকানা জানা যায়। অভিযুক্তের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে এবং ওই সব অ্যাকাউন্ট থেকেও এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলেছে অভিযুক্ত। এরপরই শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় জুনায়েদকে।
তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, জামতাড়া গ্যাংয়ের মাথারা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। সেখানে তারা কমবয়সিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে। এরপর প্রস্তাব দিচ্ছে, অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে ভালো টাকা কমিশন পাওয়া যাবে। তার সঙ্গে জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যদের পরিচয় হয় ফেসবুক ও ইনস্টার সূত্রে। তাকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে সে রাজি হয়। প্রথমে সে নিজের নামে তিনটি অ্যাকাউন্ট খোলে। সেখানে টাকা জমা পড়ত প্রতিদিন। এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলে নেওয়া হত। তারপর হাওলার মাধ্যমে সেই টাকা পৌঁছে যেত জামতাড়া গ্যাংয়ের পান্ডাদের হাতে। লাখ টাকা পিছু কমিশন মিলত এক শতাংশ। টাকার লোভেই ধৃত অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেয়। এরপর তাকে বলা হয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়াতে। তখন জুনায়েদও ফেসবুকে অনেকের সঙ্গে ভাব জমিয়ে একইভাবে তাদের কমিশনের লোভ দেখায়। অনেকেই তার কাছে আধার, প্যানসহ বিভিন্ন নথি পাঠায়। সেগুলি দিয়ে তাদের সই নকল করে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলে জুনায়েদ। এটিএম কার্ড নথির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছালে সেগুলি সংগ্রহ করে নিত সে। অ্যাকাউন্টগুলিও সে নিয়ন্ত্রণ করত। তারপর টাকা তুলে হাওলার মাধ্যমে পাঠিয়ে দিত জামতাড়ায়। এখনও পর্যন্ত এরকম ১৩টি অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতের ফোন থেকে জামতাড়া গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যের নাম মিলেছে। তাদের খোঁজে ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছে তদন্তকারী টিম।