সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভারতে ঢুকে বেআইনিভাবে বসবাসের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম হরিচাঁদ মণ্ডল (৩৫)। বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা অভিযুক্ত হরিচাঁদ বেশ কয়েক বছর আগে বাবা-মা সহ এদেশে আসে। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও গাইঘাটা থানার মোড়লডাঙা এলাকায় বেআইনিভাবে বসবাস শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে থাকার সময় হরিচাঁদ তহমিনা খাতুনকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর স্ত্রীকে ছেড়ে বাবা-মাকে নিয়ে ভারতে এসে বসবাস শুরু করে। আবার এদেশে এসেও পূজা রায় নামে বাংলাদেশি এক যুবতিকে বিয়ে করে সে। পূজা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বসবাস করছিল।
মাস দুয়েক আগে হরিচাঁদের প্রথম পক্ষের স্ত্রী তহমিনা এসে গাইঘাটা থানায় স্বামীর নামে অভিযোগ করেন। মহিলা দাবি করেন, স্বামী তাঁকে ছেড়ে ভারতে এসে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। এদেশে এসে বাংলাদেশি যুবতিকে বিয়ে করেছে। এমনকি ভারতের ভোটার কার্ড সহ একাধিক পরিচয়পত্র তৈরি করে বলেও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই কাজে স্বামীকে সাহায্য করার জন্য আরও সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তহমিনা। অভিযোগের পর থেকেই পলাতক ছিল হরিচাঁদ। সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হরিচাঁদ বাংলাদেশে থাকাকালীন তহমিনাকে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর বাবা-মাকে নিয়ে বাংলাদেশে পাসপোর্ট ব্যবহার করে এদেশে আসে। তবে এদেশে থাকার মেয়াদ শেষ হলেও ফিরে যায়নি। পূজা রায় নামে বাংলাদেশি যুবতিও বাংলাদেশের পাসপোর্টে এদেশে এসে বেআইনিভাবে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে হরিচাঁদ পূজাকে বিয়ে করে। তবে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর করা অভিযোগের পর থেকে পলাতক পূজাও। হরিচাঁদের বাবা-মাকেও পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার ধৃত হরিচাঁদকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশ ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে এদেশের নকল পরিচয়পত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে। অপর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।