সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাস কয়েক আগের ঘটনা। বীরভূমের পাইকর ও মুরারইয়ের দু’টি পরিবারের ছ’জন সদস্যকে স্রেফ সন্দেহের বশে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। এখনও তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে শুধু বাংলায় কথা বলার জন্য অত্যাচার ও ধরপাকড় চলছে। ফের সামনে এল সেরকমই এক ঘটনা। ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত ওড়িশা। অভিযোগ আরও মারাত্মক! বীরভূমের পাঁচ পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে সেখানকার ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চও। তাদের তরফে ওড়িশা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রামাণ্য সব নথি পাঠানো হয়েছে। রবিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পাঁচ শ্রমিককে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি দিলেও আপাতত কয়েকদিন নিয়মিত স্থানীয় থানায় হাজিরা দিতে বলেছে পুলিশ। প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় কাজ করার পর হঠাৎ এখন কেন এই হেনস্তা, উত্তর হাতড়াচ্ছেন শ্রমিকরা।
নলহাটির ভগলদিঘি গ্রামের আব্দুল আলিম শেখ ও তাঁর দুই ভাই আতাউর রহমান শেখ, সেলিম শেখ এবং তাঁদের খুড়তুতো ভাই নূর আলম শেখ ও ভাগ্নে মনিরুল ইসলাম কাজের সূত্রে ওড়িশার ভদ্রকে থাকেন। স্থানীয় আগরপাড়া থানার পুসুন্দি গ্রামে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন তাঁরা। মূলত কাঁসা-পিতলের পুরোনো জিনিসপত্র, লোহার ভাঙাচোরা সামগ্রী কেনাবেচার কারবার করেন। বহু বছর ধরে তাঁরা এই কাজই করে আসছেন ওই অঞ্চলে। তাঁদের অভিযোগ, শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ নথি যাচাইয়ের কথা বলে আগরপাড়া থানার পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের লক্ষ্মীবাজার এলাকার একটি কালীমন্দিরের সামনে এনে রাখা হয়। জায়গাটি ডিটেনশন ক্যাম্প বলে দাবি শ্রমিকদের।
আব্দুল আলিম ফোনে বলেন, ‘শনিবার হঠাৎ পুলিশ এসে বলে, বড়বাবু ডেকেছেন। থানায় কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি। শুধু আধার ও ভোটার কার্ড নিয়ে একটি কাগজে সই করে নেয়। রাতে ভদ্রক কালীমন্দিরের সামনে ডিটেনশন ক্যাম্পে আমাদের রেখে চলে যায়। আমাদের বাংলাদেশি সন্দেহে ধরা হয়েছে বলে ওরা বলাবলি করছিল।’
নলহাটির গ্রামে এই খবর পৌঁছতেই দুশ্চিন্তা গ্রাস করে পরিবারগুলিকে। আব্দুল আলিমের স্ত্রী তহিমা বিবি বলেন, ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করে ছেড়ে দেবে বলে থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে আমার স্বামীকে। আমরা তো বংশপরম্পরায় পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আধার, ভোটার, রেশন কার্ড, পূর্বপুরুষের জমির দলিল সবই আছে। তারপরও বাংলাদেশি বলা হচ্ছে।’ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রিপন শেখ বলেন, ‘এই শ্রমিকদের ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত কাগজপত্র দেখানোর পরও তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সমস্ত নথি সংগ্রহ করে ওড়িশা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে মেল করেছি।’