Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশি মডেল শান্তার বাবারও অস্তিত্ব নেই শক্তিগড়ে, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির নেপথ্যে কারা, খুঁজছে পুলিস

শক্তিগড় থানা এলাকায় এখন চর্চিত নাম কলকাতা পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল। তাঁকে সরাসারি কেউ দেখেনি।

বাংলাদেশি মডেল শান্তার বাবারও অস্তিত্ব নেই শক্তিগড়ে, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির নেপথ্যে কারা, খুঁজছে পুলিস
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শক্তিগড় থানা এলাকায় এখন চর্চিত নাম কলকাতা পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল। তাঁকে সরাসারি কেউ দেখেনি। তাতে কী! মোবাইল স্ক্রল করলেই তো ভেসে আসছে বাংলাদেশি মডেলের নানা ভিডিও। ওই মডেল পুলিসের কাছে নথি দিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি বড়শুল-২ পঞ্চায়েতের রাজডাঙার বাসিন্দা। বাবার নাম স্বপন পাল। মেয়েকে কেউ দেখেনি, হতেই পারে সে কলকতায় থাকে। কিন্তু, তাঁর বাবা তো এখানেই থাকবে। এমন ধারণা করে অনেকেই নায়িকার বাবার খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছেন। যদিও পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিস রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে, শান্তা পাল বলে বড়শুলে কোনও অভিনেত্রী থাকেন না। তাঁর বাবারও কোনও অস্তিত্ব নেই। তিনি এলাকার ভোটারও নন। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বাংলাদেশি অভিনেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তাঁর সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য যাচাই করা হয়। পূর্ব বর্ধমানের কোথাও তাঁর বাড়ি নেই। ভুয়ো ঠিকানা দিয়ে পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন। তবে এই কাজে কেউ তাঁকে সাহায্য করেছে কি না, সেটা দেখা হচ্ছে। পুলিস স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান সহ এলাকার অন্যান্য বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর সহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের আধার কার্ড কয়েক মাস আগে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে বসবাস করছে। এছাড়া জেলায় ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট তৈরির চক্রেরও হদিশ পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশি এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে আউশগ্রামে বসবাস করছিল। পরে পুলিস জানতে পারে, ওই ব্যক্তি ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। সেটা দেখিয়েই পাসপোর্ট তৈরি করে। ওই ঘটনার পর জেলায় পাসপোর্ট ইস্যু করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়। জেলায় ভুয়ো নথি তৈরির একটি চক্র বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। এখনও কেউ কেউ অধরা থেকে গিয়েছে। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশি ওই মডেল ভুয়ো আধারকার্ড তৈরি করেছিলেন কি না, সেটা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে। আরেক আধিকারিক বলেন, বড়শুলের ওই এলাকা জেলার বাইরে অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। তারপরও ওই বাংলাদেশি অভিনেত্রীর আধারকার্ডে সেখানকার ঠিকানার উল্লেখ থাকার পিছনে কোনও না কোনও কারণ রয়েছে। কোনও দালাল ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব নয়। সেই দালাল চক্রটির খোঁজে তল্লাশি চলছে। বড়শুল পঞ্চায়েতের ওই বুথের সদস্য অরুণ গোলদার বলেন, এলাকার সকলকেই কম বেশি চিনি। ওই নায়িকা বা তাঁর বাবাকে কোনও দিনই গ্রামে দেখিনি। ভোটার তালিকাও খুঁটিয়ে দেখেছি। কোথাও তাঁদের নাম নেই। কোনও চক্র ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করলে, পুলিস নিশ্চয় পদক্ষেপ নেবে। পুলিসকে সমস্ত রকম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। তারাও ভোটার তালিকা দেখেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ