Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষিদ্ধপল্লিতে আলাপ, কাকুকে শ্বশুর বানিয়ে বাংলাদেশি প্রেমিকার পাসপোর্ট, শ্রীঘরে সালানপুরের যুবক

কুলটির নিষিদ্ধপল্লির বাংলাদেশি যুবতীর পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছিল তার প্রেমিক। এসআইআর আবহে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে শোরগোল পড়ল শিল্পাঞ্চলে।

নিষিদ্ধপল্লিতে আলাপ, কাকুকে শ্বশুর বানিয়ে বাংলাদেশি প্রেমিকার পাসপোর্ট, শ্রীঘরে সালানপুরের যুবক
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কুলটির নিষিদ্ধপল্লির বাংলাদেশি যুবতীর পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছিল তার প্রেমিক। এসআইআর আবহে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে শোরগোল পড়ল শিল্পাঞ্চলে। পুলিশ অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করলেও যুবতীর নাগাল পায়নি। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছোটন সেন তাঁর কাকা উৎপল সেনকে প্রেমিকার বাবা আর কাকিমা শুভঙ্করী সেনকে মা সাজিয়ে নকল পাসপোর্ট বানিয়েছিল। শুধু পাসপোর্টই নয়, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম শংসাপত্রের নকল নথিও প্রেমিকা ময়না সেনের নামে বানিয়েছিল অভিযুক্ত। সালানপুরের দেন্দুয়ার বাসিন্দা ছোটন সেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়।

Advertisement

ময়না সেন নামে থাকা একটি পাসপোর্ট রি ভেরিফিকেশনের নির্দেশ দেওয়া হয় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে। ময়নার তথাকথিত বাবা, মাকে নোটিস করে পুলিশ। তাঁরা নোটিস পেয়ে হাজির হন। কিন্তু ময়না সেন হাজির হয়নি। তখনই উৎপল সেন ও শুভঙ্করী সেন জানিয়ে দেন, তাঁদের কোনও মেয়ে নেই। ছোটন সেন, যাঁকে ময়নার স্বামী বলা হচ্ছে সে তাঁদের ভাইপো। স্পেশাল ব্রাঞ্চের তদন্তকারী অফিসার সালানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। 
দীর্ঘ তদন্তের পর ছোটন সেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০১৯ সালে কুলটি থানার লছিপুর গেটের নিষিদ্ধপল্লিতে ময়নার সঙ্গে পরিচয় হয় ছোটনের। এরপরই ময়না ওরফে কলির সঙ্গে ছোটনের প্রেম হয়। দুই সন্তানের বাবা ছোটন ময়না সঙ্গে থাকার জন্য নিজের পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। লছিপুর গেটে ভাড়া বাড়িতে ময়নাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। পুলিশের দাবি, ছোটন স্বীকার করেছে সে-ই নকল নথি তৈরি করিয়েছে। ময়না ছোটনকে জানায়, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁকে এক দালাল বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনে। নিষিদ্ধপল্লিতে তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে এখানেই আছে। তাঁর কোনও প্রমাণপত্র নেই। এরপরই ছোটন প্রমাণপত্র তৈরি করতে তোড়জোড় শুরু করে। অভিযোগ, ময়নার টাকাতেই একের পর এক ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি করা হয়। আধার, প্যান কার্ডের পাশাপাশি পাসপোর্টও তৈরি হয়ে যায়। 
নিষিদ্ধপল্লি সংলগ্ন এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায়, নকল নথি তৈরির চক্রের খবর। জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধপল্লির দালালরা অনেক সময়ে বাংলাদেশের মেয়েদের এখানে এনে দেহ ব্যবসায় নামিয়ে দেয়। কিছুদিন থাকার পরই তাদের ভারতীয় নথি তৈরির কাজ শুরু হয়। কখনও ময়নার মতো কেউ প্রেমিক ধরে সেই নথি তৈরি করায়। অনেকে আবার নিষিদ্ধপল্লির দালালদের মাধ্যমে তা তৈরি করিয়ে নেয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এদের হাত এতটাই লম্বা যে, নকল নথিতেই দ্রুত পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যায়। পুলিশ এও জেনেছে, নকল পাসপোর্টের মাধ্য঩মেই ময়না ও ছোটন একাধিক বার বাংলাদেশও গিয়েছিল। তাহলে কি ছোটন আরও অনেকের নকল পাসপোর্ট বানিয়েছে, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 
বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দর বলেন, আমি আগেই অভিযোগ করেছি, তৃণমূল নিষিদ্ধপল্লির বাংলাদেশিদের এদেশের ভোটার কার্ড বানিয়ে দিয়েছে। তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এই নথি তো কেন্দ্রীয় সরকার বানায়। নকল নথি তৈরি আটকাতে তাঁদের কোনও দায় নেই।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ