Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোপনে কাঁটাতার পার, স্ত্রীর অভিযোগ শ্রীঘরে বাংলাদেশি ইস্কো কর্মী

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ হয় না এমন দাম্পত্যজীবন খুঁজে পাওয়াই ভার। অনেকেই বলেন, এই অশান্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে রোমান্টিকতা, ভালোবাসা।

গোপনে কাঁটাতার পার, স্ত্রীর অভিযোগ শ্রীঘরে বাংলাদেশি ইস্কো কর্মী
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ হয় না এমন দাম্পত্যজীবন খুঁজে পাওয়াই ভার। অনেকেই বলেন, এই অশান্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে রোমান্টিকতা, ভালোবাসা। মাঝেমধ্যে একটু কথা কাটাকাটি না হলে প্রেম জমে না। কিন্তু ঝগড়ার পরিণতিতে শ্রীঘরে যেতে হবে এমন ধারণা হয়তো বার্নপুরের ইস্কো কর্মীর ছিল না। শুধুই শ্রীঘরে যাওয়ায় নয়, ফাঁস হয়ে গেল তার আসল চেহারা। এতদিন তাকে যারা ভদ্রলোক হিসেবে জানত তাঁরাও বলছেন, ভাবা যায়! অনুপ্রবেশকারীরা কীভাবে সমাজে মিশে রয়েছে। তারা এদেশে এসে চাকরিও জুটিয়ে নিচ্ছে। এর বিহিত হওয়া দরকার।

Advertisement

কিন্তু আচমকা হল টা কী? পুলিস জানিয়েছে, ইস্কো কর্মী বাংলাদেশি-এই অভিযোগ অন্য কেউ করেননি। খোদ স্ত্রী থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে পারিবারিক কোনও বিষয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। তা পৌঁছয় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তারপরই তার স্ত্রী থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আসানসোল পুলিস কমিশনারেটের কাছে বধূ নির্যাতন ও তাঁর স্বামী বাংলাদেশি বলে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর পুলিস তদন্ত করতে নেমে ওই গৃহবধূর অভিযোগের সত্যতা জানতে পারে। জেরা করা হয় ইস্কো কর্মী সুশান্ত বিশ্বাসকে। এদেশে থাকার উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পারায় পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হীরাপুর থানা এলাকায়। শনিবার হীরাপুর থানার পুলিস অভিযুক্তকে আসানসোল আদালতে পেশ করলে বিচারক চারদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এসিপি ইপ্সিতা দত্ত বলেন, স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ওই ইস্কো কর্মী বাংলাদেশি বলে প্রমাণ মিলেছে। আমরা অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সুশান্ত হীরাপুরের ছোটদিঘারি এলাকায় থাকত। সেখানেই স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদের সূত্রপাত্র। অভিযুক্ত সুশান্ত বিশ্বাস ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ থেকে গোপনে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সে এদেশে এসে নদীয়ায় থাকত। সেখানে চতুর্থ শ্রেণিতে পাসের একটি নকল শংসাপত্র সংগ্রহ করে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হয়। এরপর ওই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক ও  উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে। কলেজে ভর্তি হয়ে স্নাতকও হয়। এমনকী আইটিআই পাশ করে। তারপর কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা সেইলের কাজে নিযুক্ত হয়। ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ইস্কো কর্মীর পরিচিতরা বলছেন, ঘরের লোক পর্দা ফাঁস না করলে হয়তো সে এভাবেই দিনের পর দিন এখানে থেকে যেত। বাংলাদেশি হয়ে কীভাবে সে চাকরি জুটিয়েছিল সেটাও তদন্ত করা দরকার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ