সংবাদদাতা, লালবাগ: জাল নথিপত্র তৈরি করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা দিব্যি ভারতীয় বনে যাচ্ছে। পুলিসের অভিযানে মাঝেমধ্যেই সেরকম অনুপ্রবেশকারীরা ধরা পড়ত। তবে সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হতে এপারের পুলিস প্রশাসন অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করতে তৎপর হওয়ায় একের পর এক এ ধরনের বাংলাদেশির সন্ধান পাওয়া যেতে থাকে। পাশাপাশি নকল আধার ও ভোটার কার্ডের এক বিরাট চক্রের কাজকর্মও সামনে আসে। সম্প্রতি ফের মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় একরম এক অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ল পুলিসের জালে। ভারতীয় আশ্রয়দাতাকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে বহাল তবিয়তে বসবাস করছিল সে। সোমবার রাতে সেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করল লালগোলা থানার পুলিস।
সাত বছর আগে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এদেশে ঢুকেছিল রুহুল। তারপর সীমান্ত লাগোয়া লালগোলার বিলবোরা কোপরা আটরশিয়ার বাসিন্দা সফিকুল শেখের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সফিকুল শেখকে বাবা সাজিয়ে নকল আধার, ভোটার কার্ড সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তৈরি করেছিল রুহুল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। স্থানীয় সোর্স মারফত সেই খবর চলে যায় পুলিসের কাছে। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে সফিকুল শেখের বাড়ি থেকে ওই বাংলাদেশিকে লালগোলা থানার পুলিস গ্রেপ্তার করল। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত রুহুল আমিনের বাড়ি বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুরে।
ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, রুহুল আমিন নামে ওই বাংলাদেশি যুবক গত সাত বছর ধরে এদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছিল। সোমবার রাতে তাকে লালগোলার আটরশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নকল আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সহ একাধিক নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নকল আধার ও ভোটার কার্ডে নিজের বাবা দুরুল হুদার পরিবর্তে সফিকুল শেখের নাম বসায় সে। ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে রুহুলের আশ্রয়দাতা সফিকুল শেখকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। থানার লোকজন আসার আগেই গা ঢাকা দেয় সে। তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত বছর আগে বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ সুন্দরপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিন লালগোলার ভারত-বাংলাদেশ আটরিশিয়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। আটরশিয়ার বাসিন্দা সফিকুল শেখ নিজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশি যুবককে বাড়িতে আশ্রয় দেন। বাংলাদেশি ওই যুবক রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কাজের সূত্রে বছরের বেশির ভাগ সময় ভিনরাজ্যে থাকত। ঈদ উপলক্ষ্যে কিছুদিন সে লালগোলায় ফেরে। এদেশে অনুপ্রবেশের পর চোরাপথে সে কয়েকবার বাংলাদেশও ঘুরে এসেছে। ভগবানগোলায় থাকতে থাকতে আশ্রয়দাতা সফিকুল শেখের সাহায্যে নকল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করে। স্থানীয় সোর্স মারফত বিষয়টি লালগোলা থানার পুলিসের নজরে আসতেই সোমবার রাতে আটরশিয়ায় সফিকুল শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নকল আধার ও ভোটার কার্ড চক্র সক্রিয় রয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই চক্র অনুপ্রবেশকারীদের নকল আধার, ভোটার কার্ড প্রভৃতি বানিয়ে দেয়। আর এই নকল আধার ভোটার কার্ড নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।