সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: বাংলাদেশি যুবককে জাল আধারকার্ড তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল শিলিগুড়ির এক ব্যাঙ্ককর্মী। সোমবার রাতে খড়িবাড়ি থানার পুলিস হলদিবাড়ি থেকে ওই ব্যাঙ্ককর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সোমেশ বর্মন। হলদিবাড়ির বাসিন্দা সে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কিতে এসএসবি’র ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের অভিযানে এক বাংলাদেশি যুবক ধরা পড়ে। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও এলাকার বাসিন্দা মহন্ত বর্মন নামে যুবককে পরে পুলিস গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ধৃত বাংলাদেশির হেফাজত থেকে পুলিস ভারতীয় আধারকার্ড, প্যানকার্ড সহ বাংলাদেশি পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করে।
এ নিয়ে দার্জিলিংয়ের অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিষেক রায় বলেন, সম্প্রতি এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশি ওই নাগরিকের কাছ থেকে আধারকার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যা সে তৈরি করতে পারে না। এজন্য যার মারফত সে ওই আধারকার্ড তৈরি করেছিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আধারকার্ড তৈরি করা খুবই সহজ। এটি জাল তৈরি করা যায়। যতজন বাংলাদেশি নাগরিক জেলায় ধরা পড়েছে তাদের জেরা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে কোথা থেকে তারা জাল নথি সংগ্রহ করছে। ওসব চিহ্নিত করার অভিযান চলছে।
ইতিমধ্যেই পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে ধৃত বাংলাদেশি যুবক মহন্ত বর্মন বছর খানেক আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হলদিবাড়ি দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এরপর এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কাজের উদ্দেশ্য ঘুরে বেড়ায়। ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতে আশ্রয় নেয়। ধাপে ধাপে ভারতীয় আধারকার্ড ও প্যানকার্ড বানিয়ে নেয় সে। পুলিস ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হলদিবাড়ির ব্যাঙ্ককর্মী সোমেশ বর্মনের হদিশ পায়। পুলিসের তদন্তকারী এক অফিসার বলেন, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হলদিবাড়ির বাসিন্দা সোমেশ বর্মনের খোঁজ পাই আমরা। ওই ব্যক্তি শিলিগুড়ির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্মরত। বাংলাদেশি ওই যুবকের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে ওই ব্যাঙ্ককর্মী জাল আধারকার্ড তৈরি করে দেয়। সোমবার রাতে খড়িবাড়ি থানার পুলিস হলদিবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যাঙ্ককর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ওই ব্যাঙ্ককর্মী কতদিন ধরে এই কাজে জড়িত, এখনও পর্যন্ত কতগুলি জাল আধারকার্ড সে তৈরি করেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিজস্ব চিত্র।