সংবাদদাতা মালদহ: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে নাম ঠিকানাও ভাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ধরা পড়ে ওই বাংলাদেশি। ঠিক কী কারণে সে ভারতে ঢুকেছিল, তা জানতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস ও গোয়েন্দা দপ্তর। ঠিক কতদিন ধরে এবং কেন ওই ব্যক্তি ভারতে আস্তানা গেড়েছিল, তা জানতে তাকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তার সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে মুর্শিদাবাদ পুলিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে বলে মালদহ জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির আসল নাম মহম্মদ দিলওয়ার হোসেন। বয়স ৩১ বছর। সে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার দোদাগারি থানা এলাকার পানিহার আশারিটোলার বাসিন্দা। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে সে ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে ইংলিশবাজারের মহদিপুর স্থলবন্দরে দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাসপোর্টে তার নাম সেলিম শেখ বলে উল্লিখিত ছিল। ঠিকানা দেওয়া ছিল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার বাজিতপুর কালুখালি। ধৃত বাংলাদেশির বাবার নাম মহম্মদ মনিরুল হলেও পাসপোর্টে তার বাবার নাম হাকিম শেখ।
মহদিপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের আধিকারিকরা যখন রিডার মেশিনে ওই বাংলাদেশির পাসপোর্ট স্ক্যান করছিলেন তখনই জানা যায় কলকাতার ইমিগ্রেশন ব্যুরোর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেই রিপোর্ট পেয়ে তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছে। এরপরই তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তাকে ইংলিশবাজার থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মালদহ জেলা পুলিসের পদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত যুবক নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে নিয়েছে। নকল নথি ব্যবহার করে সে পাসপোর্টটি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, ধৃতের পাসপোর্টে যে ঠিকানা ও তার বাবা হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা রয়েছে তা কতদূর সত্যি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা ধৃত বাংলাদেশিকে ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছিল সেই সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ধৃত বাংলাদেশি কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে ভারতে এসে থাকছিল তাও জানার চেষ্টা চলছে।