সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: সোমবার ভোরে বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় একটি ভারতীয় ট্রলার। সেই ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পাঁচজন মৎস্যজীবীর খোঁজ মঙ্গলবারও পাওয়া যায়নি। তার মধ্যে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর অভিযোগ। যে ১১ জন মৎস্যজীবী সোমবার রাতে ফিরে এসেছেন, তাঁরা ওই দুর্ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। বল্লম ছুড়ে এক মৎস্যজীবীকে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাকিদেরও প্রাণে মারার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর বলে দাবি মৎস্যজীবীদের। সোমবার রাতে কাকদ্বীপ এসে পৌঁছন দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারের ১১ জন মৎস্যজীবী।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? সইফুদ্দিন শেখ নামে এক মৎস্যজীবী বলেন, ভোরের দিকে ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জল সীমানার কাছাকাছি সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি চলছিল। আমরা নিজেদের দেশের সীমানার মধ্যেই ছিলাম। আমি ট্রলারের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলাম। রাজদুল আলি শেখ ট্রলারের হাল ধরে দাঁড়িয়েছিল। মাঝি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। হঠাৎই বাংলাদেশি উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি জাহাজ আমাদের ট্রলারের দিকে এগিয়ে আসে। কোনও কথা না বলেই, রাজদুলের দিকে একটি বল্লম ছুড়ে মারে। সেটি তাঁর শরীরে গেঁথে যায়। আঘাতে ও পড়ে যায়। এরপর ওই জাহাজটি সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ট্রলারের পাশে সজোরে ধাক্কা মারে। তাতেই সেটি উল্টে যায়। তখন ট্রলারের উপরে থাকা মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পড়ে যান। প্রাণ বাঁচানোর জন্য সবাই তখন হাবুডুবু খাচ্ছি। কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশি জাহাজটি চলে যায়। তখনই সব মৎস্যজীবীরা বাঁচার তাগিদে চিৎকার শুরু করে দেন। শব্দ শুনে পাশের একটি ট্রলার এসে ১১ জনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু পাঁচজনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মৎস্যজীবীদের কথা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ সীমানা লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকেছিল। কেন তারা এমন ঘটনা ঘটাল, সেটা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। আপাতত ডুবে যাওয়া ট্রলারটি নামখানা বন্দরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলেই দাবি মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের আদৌ উদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রবল সংশয় রয়েছে। তাঁদের পরিবারের লোকজন চরম উদ্বেগে রয়েছেন।-নিজস্ব চিত্র