Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্মাণ সংস্থার সুপারভাইজারের বেশে চরবৃত্তি! ব্যাংডুবি সেনা ছাউনিতে ধৃত বাংলাদেশি

নির্মাণ সংস্থার শ্রমিক সুপারভাইজারের বেশে চরবৃত্তির ছক! তাও আবার সেনা ছাউনিতে।

নির্মাণ সংস্থার সুপারভাইজারের বেশে চরবৃত্তি! ব্যাংডুবি সেনা ছাউনিতে ধৃত বাংলাদেশি
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: নির্মাণ সংস্থার শ্রমিক সুপারভাইজারের বেশে চরবৃত্তির ছক! তাও আবার সেনা ছাউনিতে। বুধবার বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনিতে শ্রমিকদের আধারকার্ড যাচাইয়ের সময় এক বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতারের পর এমনটাই অনুমান গোয়েন্দাদের। ধৃতের নাম নন্দ মণ্ডল। বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তিনদশক আগে বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে জলপাইগুড়িতে ঘাঁটি গাড়ে ধৃত যুবক। এরপর থেকে একাধিকবার চোরাপথে বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে। সম্ভবত ‘চিকেন নেক’ শিলিগুড়িতে ভারতীয় সেনার ঘাঁটি, অবস্থান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সংক্রান্ত তথ্য  পাচারের ছক কষেছিল সে। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাকেশ সিং বলেন, সেনার অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি নভেম্বর মাসে এর আগে দু’দিন সেনা ছাউনিতে শ্রমিক সুপারভাইজার হিসেবে নন্দ ঢুকেছিল বলে জেরায় জেনেছেন গোয়েন্দারা। 

Advertisement

ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনিতে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। একটি ঠিকাদার সংস্থা ওই কাজ করছে। বুধবার সেই কাজের জন্য এসেছিল শ্রমিক সুপারভাইজারের বেশ ওই বাংলাদেশি। আধারকার্ড, ভোটারকার্ড পরীক্ষা করার সময় তাকে ধরা হয়। ছবি তুলে রাখা আধার ও ভোটার কার্ডের সঙ্গেই নন্দ মণ্ডলের ফোন গ্যালারি থেকে মেলে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। সন্দেহ হয় সেনা পুলিশের। জেরায় নিজেকে বাংলাদেশি বলে সে স্বীকার করে। সেনার তরফে নন্দকে তুলে দেওয়া হয় বাগডোগরা পুলিশের হাতে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের কাছ থেকে বাংলাদেশের পরিচয়পত্র, ভারতীয় আধার, ভোটার ও প্যানকার্ড সহ একাধিক নথির হার্ডকপি উদ্ধার হয়েছে। সে অবৈধভাবে এপারে বসবাস করছিল। তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত ভারতীয় নথিগুলি যাচাই করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সে কোথা থেকে ওসব সংগ্রহ করেছে, তাও জানার চেষ্টা চলছে। 
ধৃত বাংলাদেশির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্যও পেয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ থেকে বাবা, মা, তিন ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ধৃত। কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে এপারে এসেছিল। এরপর জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানা এলাকা ঘাঁটি গাড়ে। একাধিকবার সে চোরাপথে বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে। চলতি মাসে দু’দিন সেনা ছাউনিতে কাজ করেছিল। তৃতীয়দিন কাজ করতে গিয়েই সে ধরা পড়ে যায়। এর আগে অক্টোবর মাসে সে তিন থেকে চারদিন সংশ্লিষ্ট সেনা ছাউনিতে কাজ করেছে বলে খবর।  বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে ধৃতকে তিনদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। 
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সেনা ছাউনির খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের নতুন বন্ধু পাক আইএসআই’এর কাছে চালান করাই ছিল নন্দর ‘অ্যাসাইনমেন্ট’। প্রসঙ্গত, গত মে মাস থেকে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেনা ছাউনি চত্বর থেকে পাকড়াও হল তিন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি। যা নিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ