Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল আটকেছে বাংলাদেশ, গরম পড়তেই গঙ্গারামপুরে শুকিয়ে কাঠ পুনর্ভবা নদী

খরা  শুরু হতেই জলের জন্য হাহাকার। গঙ্গারামপুরের পুনর্ভবা নদী শুকিয়ে চর বেরিয়ে এসেছে।

জল আটকেছে বাংলাদেশ, গরম পড়তেই গঙ্গারামপুরে শুকিয়ে কাঠ পুনর্ভবা নদী
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: খরা  শুরু হতেই জলের জন্য হাহাকার। গঙ্গারামপুরের পুনর্ভবা নদী শুকিয়ে চর বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে নদী ভারতে প্রবাহিত হতেই শুকিয়ে যাচ্ছে জল। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যায় কৃষক থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীরা।

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিনটি প্রধান নদী আত্রেয়ী, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন। এখন নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। গঙ্গারামপুরের হামজাপুর এলাকা থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে পুনর্ভবা নদী। গঙ্গারামপুর ও তপন ব্লকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফের বাংলাদেশে গিয়েছে  নদীটি। একটা সময়ে খরস্রোতা হিসেবে পরিচিত ছিল পুনর্ভবা। কিন্তু এখন জল শুকিয়ে চেনা দায়। নদীবক্ষে সারি সারি নৌকা থাকলেও জলের অভাবে চালাতে পারছেন না মত্স্যজীবীরা। পেট চালানোর তাগিদে নদী পারের মৎস্যজীবীরা পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলায় হারাতে বসেছে নদিয়ালী মাছ। একইভাবে চাষের কাজে জল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের কোনও উদ্যোগ নেই বলেই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ রায়ের আক্ষেপ, আমাদের নদী মরে গিয়েছে। বাংলাদেশ ১৫ দিন আগে এমন জল ছেড়েছিল যে শিববাড়ি এলাকায় অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো ডুবে যায়। তারপর থেকে নদী শুকিয়ে চর জেগেছে। প্রশাসন না দেখলে নদীর অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা চাষের জল পাই না। মৎস্যজীবীরা পেশা বদলে নিচ্ছেন।
সূত্রের খবর, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও এই দু’জায়গায় ড্যাম করে পুনর্ভবা নদীর জল নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ। গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন রায়ের কথায়, বাংলাদেশ গায়ের জোরে নদীর জল আটকে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক রাজ্য। তারপর বিদেশমন্ত্রকে লিখিত জানাব। পুনর্ভবা নদীর খনন হয় না বলে নাব্যতা হারিয়েছে। রাজ্য সরকার খনন করে খরায় জল ধরার ব্যবস্থা করুক। 
জেলার প্রধান নদী আত্রেয়ী, পুনর্ভবা ও টাঙ্গনের জলপ্রবাহ আটকে দিচ্ছে বাংলাদেশ। সেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। তিনি এদিন বলেন, রাজ্য জানালেও কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এটা সম্পূর্ণ কেন্দ্রের এক্তিয়ার ভুক্ত। বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলুক কেন্দ্র। 
জেলার পরিবেশপ্রেমী সংস্থা দিশারী সংকল্প সংগঠনের অন্যতম সদস্য তুহিন শুভ্র মণ্ডল বলেন,আত্রেয়ী বাঁচাওয়ের সঙ্গে পুনর্ভবার জন্যও আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নদীর প্রবাহ আটকানোয় জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। বাংলাদেশ দিনাজপুর জেলায় দু’জায়গায় পুনর্ভবার উপর রাবার ড্যাম করে জল নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধুমাত্র গঙ্গা ও তিস্তা চুক্তি করলে হবে না, নদী বাঁচাতেও চুক্তি করতে হবে ভারত সরকারকে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ