Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে মৃত ব্যক্তিকে বাবা দেখিয়েই ফর্ম পূরণ রানাঘাটে

এক ব্যক্তিকে নিজেদের ‘অভিভাবক’ দাবি করে এসআইআর ফর্ম ফিল আপ করেছিলেন চার ব্যক্তি।

বাংলাদেশে মৃত ব্যক্তিকে বাবা দেখিয়েই ফর্ম পূরণ রানাঘাটে
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এক ব্যক্তিকে নিজেদের ‘অভিভাবক’ দাবি করে এসআইআর ফর্ম ফিল আপ করেছিলেন চার ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজনের অভিভাবক নাকি বছর পঞ্চাশ আগে বাংলাদেশে মারা গিয়েছেন। এমনই একটি অভিযোগ জমা পড়েছে রানাঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে।

Advertisement

স্থানীয় বিএলও ওই ‘মৃত’ ব্যক্তির প্রকৃত সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সারবত্তা পেয়েছেন বলেও দাবি। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি হাঁসখালি ব্লকের বগুলা রামদুলালপুর থেকে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগপত্রে এক মহিলা দাবি করেছেন, ৮৮ কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় তাঁদের রামদুলালপুরের প্রতিবেশী গ্রাম কৌতুকপুরের এক ব্যক্তি নরেন্দ্র টিকাদার নামে এক ব্যক্তিকে বাবা দাবি করে এসআইআর ফর্ম ফিলাপ করেছেন। অথচ রঞ্জন টিকাদার নামে ওই ব্যক্তির বাবা নাকি নরেন্দ্র টিকাদার নন। ঘটনাচক্রে এই নরেন্দ্র ঠিকাদার প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে বাংলাদেশেই মারা গিয়েছেন। আবার ওই একই গ্রামে রমেশ টিকাদার, শ্যামল টিকাদার, অভিজিৎ টিকাদার এবং মহানন্দ টিকাদার নামে চার ব্যক্তি নাকি মৃত নরেন্দ্রর স্ত্রী যশোদাকে ‘মা’ দাবি করে এসআইআর ফর্ম ফিল আপ করেছেন। ঘটনাচক্রে যশোদাদেবী একাত্তরে এদেশে এসেছিলেন বটে। কিন্তু তাঁর চার সন্তানের নাম যথাক্রমে শ্যামাপদ, রামপদ, শচীন এবং নির্মল টিকাদার। ফলে বাংলাদেশ মৃত নরেন্দ্র এবং বছর তিনেক আগে প্রয়াত যশোদার পরিচয় ‘ছিনতাই’ করে পাঁচ ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তোলার চেষ্টা করছেন বলে ওই অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগটি একেবারে ভিত্তিহীন নয়, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় বিএলও প্রণব টিকাদার নিজেও। তিনি বলেন, শ্যামল, অভিজিৎ, মহানন্দ এবং রমেশকে আমি চিনি। এরা আমাদের এলাকাতেই থাকে। তবে নরেন্দ্র অথবা যশোদা এদের পিতা অথবা মাতা নন, এটাও আমি জানি। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নিশ্চয়ই হিয়ারিংয়ে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা হবে। ওই নামের ব্যক্তিরা যে কোনওভাবেই তাঁদের বাবা-মায়ের সন্তান নন, তা জানিয়ে জোর সওয়াল করেছেন নরেন্দ্র-যশোদার ছোট ছেলে নির্মল টিকাদার। তিনি বলেন, ওরা আমাদের আত্মীয় হয় ঠিকই। কিন্তু আমার বাবা-মায়ের সন্তান নয়। আমরা চার ভাই। তাছাড়া আমাদের বাবা অন্তত ৫০ বছর আগে বাংলাদেশেই মারা গিয়েছেন। তখন আমাদের বয়স ২ মাস। মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশজুড়ে যখন অশান্তি চলছে তখন আমাদের মা চার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে এই দেশে চলে এসেছিল।  রানাঘাটের মহকুমা শাসক মহম্মদ সুবুর খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে যদি আমাদের দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ে তাহলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তা পর্যালোচনা করবেন। নির্দিষ্ট হিয়ারিংয়ের মাধ্যমেই এই বিষয়গুলো যাচাই হবে। যদি এই ধরনের ভুল নাম কেউ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা হিয়ারিংয়েই ধরা পড়বে। এদিকে, বারবার চেষ্টা করেও রঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ