Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বনগাঁ ট্যাংরা কলোনি স্কুল, চাকরি গিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর, বাজবে না ঘণ্টা! ইলেকট্রিক বেল কিনলেন প্রধান শিক্ষক

স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজাবে কে? ক্লাস শেষের বেল’ই বা কে বাজাবে।

বনগাঁ ট্যাংরা কলোনি স্কুল, চাকরি গিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর, বাজবে না ঘণ্টা! ইলেকট্রিক বেল কিনলেন প্রধান শিক্ষক
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজাবে কে? ক্লাস শেষের বেল’ই বা কে বাজাবে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর চাকরি গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশে। ফলে ঘণ্টা বাজানোর লোক নেই। অতএব প্রধান শিক্ষক কিনলেন ইলেকট্রিক বেল।

Advertisement

এরকম করুণ ছবি রাজের প্রায় সর্বত্রই। ব্যতিক্রম নয় বনগাঁ ব্লকের ট্যাংরা কলোনি হাইস্কুলও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে স্কুলের বর্তমান চতুর্থ শ্রেণির কর্মীটিরও। এই বিদ্যালয়ে তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে নেই। বাকি দু’জন মিলে কোনওমতে কাজ সামলাতেন। ফেব্রুয়ারি মাসে একজন অবসর নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে ছিলেন একজন মাত্র চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। তিনিই এতদিন স্কুলের কাজ সামলাচ্ছিলেন। কোর্টের নির্দেশে এবার সেই জায়গাটিও গেল শূন্য হয়ে। ফলে এখন কোনও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীই থাকলেন না। 
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিমেষ হরি নামে চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মী শুক্রবার থেকে স্কুলে আসছেন না। ফলে তাঁর কাজ সামলাতে হচ্ছে অন্যদের। আপাতত স্কুলের ভোকেশনাল বিভাগের এক কর্মীকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এখন স্কুলে পরীক্ষা চলছে। কাজ কিছুটা কম। ফলে সামান্য স্বস্তি। কিন্তু পুরোদমে ক্লাস চালু হলেই পড়তে হবে সমস্যায় বলে আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ। স্কুলে ঘণ্টা কে বাজাবে, অন্যান্য কাজ কে করবে সেসব মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। প্রধান শিক্ষক মানস বিশ্বাস বলেন, ‘স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী না থাকলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ঘণ্টা বাজানোর জন্য শিক্ষকদের বলা যায় না। এটা তাঁদের কাজ না। সে কারণে ইলেকট্রিক বেল কিনেছি। সুইচ অন করলেই বাজবে। আপাতত আমাদেরই এই কাজ করতে হবে।’ এই স্কুলে একজন মাত্র ক্লার্ক ছিলেন। তাঁর চাকরি বাতিল হওয়ায় স্কুল অফিসের কাজ সামলাচ্ছেন শিক্ষকরা। ক্লাস নেওয়ার ফাঁকে যে যখন সময় পাচ্ছেন কাজ করছেন। এদিন স্কুলে দিয়ে দেখা গিয়েছে সেই ছবি। ক্লার্কের চেয়ার ফাঁকা পরে আছে। অন্য চেয়ারে বসে অফিসের কাজ করছেন শিক্ষকরা। বাংলার শিক্ষক গোষ্ঠ বিশ্বাস বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে স্কুলের ক্লার্কের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে আমাদেরই ক্লার্কের কাজ করতে হচ্ছে।’ এই স্কুলের তিনজন শিক্ষকের চাকরিও বাতিল হয়েছে আদালতের নির্দেশে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা দেড় হাজার। ২৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন বর্তমানে। শিক্ষক সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাঁদের। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ