Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি বাড়ি ঘুরে শবর জনজাতির সরকারি নথি তৈরি করছে বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন

বাড়ি বাড়ি ঘুরে শবর জনজাতির মানুষদের জন্য সরকারি নথি তৈরি করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন।

বাড়ি বাড়ি ঘুরে শবর জনজাতির সরকারি নথি তৈরি করছে বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বাড়ি বাড়ি ঘুরে শবর জনজাতির মানুষদের জন্য সরকারি নথি তৈরি করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচটি গ্রামে ওই কাজ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে গোটা ব্লকেই শবর সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের হাতেই জন্ম শংসাপত্র থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি নথি তুলে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

Advertisement

বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ব্লকে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে প্রায় ৪০টি গ্রামে শবর সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। বান্দোয়ান ব্লকে তাঁদের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩৮৩ জন। তারমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দাকে ২০২২ সালে সরকারি নথি তুলে দেওয়ার কাজ হয়। তারপর সেই কাজ কিছুদিন থমকে থাকার পর ফের কাজ শুরু হয়েছে। এবিষয়ে বান্দোয়ানের বিডিও রুদ্রাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে শবর সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের জন্মশংসাপত্র, আধার কার্ড সহ অন্যান্য নথি তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচটি গ্রামে ওই কাজ শুরু হয়েছে। গুঁড়ুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হলুদবনী, সুপুরডির চিলা শবরপাড়া, কুচিয়ার বুড়িঝোড় শবর পাড়া, কুচিয়ারই মৃগীচামী শবরপাড়া এবং ধাদকার পোপো গ্রামে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিডিও আরও জানান, শবর সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই বিভিন্ন নথির অভাব প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সেটাই দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, কারও জন্মশংসাপত্র নেই, কারও আধার নেই ফলে স্বভাবতই বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া থেকে অনেকেই বঞ্চিত থাকছেন। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে শবর সম্প্রদায়ের সকলের কাছে যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি থাকে, তাঁর ব্যবস্থা করার টার্গেট নিয়ে চলছে ব্লক প্রশাসন।  বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনের আধিকারিকরা গ্রামে গিয়ে কারও বাড়িতে, কারও উঠোনে বসেই সরকারি নথির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত, বিএমওএইচ থেকে শুরু করে মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি তৈরি করে দেওয়ার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৫জনের ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। যাদের জাতি শংসাপত্র নেই, তাও তৈরি করে দেওয়ার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে। 
এমনকী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফর্মপূরণের কাজও আধিকারিক ও কর্মীরাও করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা থেকে যাতে ব্লকের কোনও বাসিন্দাকেই বঞ্চিত হতে না হয়, তারজন্য বিশেষ নজরদারি রয়েছে বিডিওর। যা কাজকে আরও ত্বরানিত করতে সাহায্য করেছে বলে জানা গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ