নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বর্ষা আসন্ন, নদীগর্ভ থেকে বালি তোলায় লাগাম টানতে চলেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার ছিল ডিস্ট্রিক্ট স্যান্ড কমিটির মিটিং। যার সভাপতিত্ব করেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, ১ জুলাই থেকে নদীগর্ভ থেকে আর বালি তোলা যাবে না। বর্ষাকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশিকা জারি থাকবে। বৈঠকে জেলাশাসক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্ষাকালে নিয়ম ভেঙে বালি তোলার চেষ্টা হলে কঠোর পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। এই মর্মে লিজ পাওয়া বালি ব্লক মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে স্টর্ক ইয়ার্ড থেকে বালি পরিবহণ হতে পারে। তার জন্যও প্রশাসন পৃথক চালান ইস্যু করে। নিয়ম মেনেই সেই চালান দেখিয়ে বালি পরিবহণ করতে দেওয়া হবে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, বর্ষাকালে কোনও ভাবেই নদী থেকে বালি তোলা যায় না। বিষয়টি যাতে নিশ্চিত করা যায় তা এদিন জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও নদী থেকে বালি তোলা হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বালির অবৈধ কারবার নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ আছে। কখনও নদীর উপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে, আবার ওভারলোডিং বালির লরি যাতায়াতের জেরে গ্রামের মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার অভিযোগও এসেছে। বালি নিয়ে অভিযোগগুলি মূলত এসেছে, জামুড়িয়া ব্লকের চুরুলিয়া এলাকায়, রানিগঞ্জ ব্লকের তিরাট, এগারা, বল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। একই অভিযোগ রয়েছে অণ্ডাল ব্লকেও। এছাড়াও পাণ্ডবেশ্বর থেকে কাঁকসা পর্যন্ত, বালি লুটের অভিযোগ হয়েছে মাঝে মধ্যেই। অজয় ও দামোদর দুই বড় নদ পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুই প্রান্ত দিয়ে বইছে। কয়েক বছরে একাধিক মানুষের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালি এক জায়গা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে নদী তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। সেই কারণেই দুর্ঘনটনাগুলি ঘটছে। একাধিক আন্দোলন হলেও বালি লুটে রাশ টানা যায়নি। যে ভাবে বিপুল পরিমাণ বালি এখনও তোলা হচ্ছে, বর্ষাকালেও তা চলতে থাকলে বড় বিপর্যয় হতে পারে। নদীর পাড় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে যেতে পারে। তাই বর্ষাকালে বালি তোলা বন্ধ রাখতে বদ্ধ পরিকর প্রশাসন। এখন দেখার আদৌ কোটি কোটি টাকার খেলা বন্ধ হয় কি না।
অন্যদিকে বর্ষার কথা ভেবেই বড় বালি কারবারিরা বিপুল পরিমাণ বালি নদীর অদূরে মজুত করা শুরু করেছে। যা পাহাড়ের রূপ নিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে স্টকের বালি বিক্রি করা যায়। নদীর পাশে বালি মজুত করার কারবারিদের অন্য খেলা থাকে। নদী থেকে বালি তুলে পাচার করলেও যাতে বলা যায় মজুত বালি পরিবহণ করা হচ্ছে। বিষয়টির উপর নজর রাখা হবে এবং কোন সংস্থা কত বালি মজুত করেছে তার মেপে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র