সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাট পুরসভায় অনাস্থা ও জটিলতা কাটাতে উদ্যোগী হলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল। দলের নির্দেশে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরসভায় দু’পক্ষকে নিয়ে বসেন সুভাষ। আসেন অশোক মিত্রও। আজ, শনিবার বালুরঘাট পুরসভায় অনাস্থা বৈঠক রয়েছে। সূত্রের খবর, অবশেষে অনাস্থা বৈঠকে অশোক ইস্তফা দিতে রাজি হয়েছেন। এনিয়ে যাতে কোনওরকম জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেকথা অশোককে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা। স্পষ্ট বক্তব্য দলীয় নেতৃত্বেরও।
অভিষেক বালুরঘাটে এসে দু-একদিনের মধ্যে পুরসভার অচলাবস্থা কাটার আশ্বাস দেওয়ার পরই বরফ গলতে শুরু করেছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। এদিন তৃণমূল জেলা সভাপতি বলেন, দলের নির্দেশ আছে। দ্রুত এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে হবে। তাই আজ সবাইকে নিয়ে বসেছিলাম। ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনাস্থা বৈঠকে আর কোনও সমস্যা হবে না। অশোকও বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আজ তা মিটে গিয়েছে। দলের নির্দেশ রয়েছে। সেভাবেই সব হবে। সূত্রের খবর, শুক্রবার অশোক, অশোকপন্থী এবং বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলা সভাপতি সুভাষ। সেখানে দলের বালুরঘাট টাউন সভাপতি সুভাষ চাকিও ছিলেন। বৈঠক চলাকালীন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারেরও পরামর্শ নেওয়া হয়।
গত ১৯ ডিসেম্বর অনাস্থা আনার পরেও চেয়ারম্যান বৈঠক ডাকছিলেন না। বিদ্রোহীদের চাপে অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর এসডিওর কাছে ইস্তফা দেন অশোক। কিন্তু বোর্ড অব কাউন্সিলারদের মিটিংয়ে ইস্তফা গ্রহণ করার নিয়ম থাকলেও অশোক ওই বৈঠক ডাকেননি। কার্যত জেদ নিয়েই ছিলেন অশোক। দলের নির্দেশে নরম হয়েছেন অশোক।
জানা গিয়েছে, শনিবার অনাস্থা বৈঠকে প্রথমে চেয়ারম্যান অপসারণ হবে। এরপরেই শুরু হবে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের পালা। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য একজনকে বৈঠক ডাকতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অশোককেই ওই বৈঠক ডাকতে হয়। সেই বৈঠক কে ডাকবেন, এখনও ধোয়াঁশা কাটেনি। শনিবার অনাস্থা বৈঠকেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।