Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদ্বোধনের ৫ বছর পরেও বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট চালু হল না

করোনাকালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে বসানো হয়েছিল অক্সিজেন প্লান্ট। কিন্তু আজও সেই অক্সিজেন প্লান্ট চালু হয়নি।

উদ্বোধনের ৫ বছর পরেও বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট চালু হল না
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: করোনাকালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে বসানো হয়েছিল অক্সিজেন প্লান্ট। কিন্তু আজও সেই অক্সিজেন প্লান্ট চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার অত্যাধুনিক অক্সিজেন প্লান্টের সরঞ্জাম। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখানে প্রতিদিন ৪০টির বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। যা বাইরে থেকে কিনতে হয়। ওই অক্সিজেন প্লান্ট চালু হলে বাইরে থেকে সিলিন্ডার কেনা কমানো যেত। অভিযোগ, প্লান্ট বসানো হলেও তা আর চালুই করতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে আছে প্লান্টের সরঞ্জামে।

Advertisement

জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ বলেন, কোভিডের সময়ে অক্সিজেন প্লান্টটি করা হয়েছিল। কিন্তু যে সংস্থা ওই প্লান্ট তৈরির দায়িত্বে ছিল তারা সেটি বানালেও তা আর চালু করতে পারেনি। বহুবার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ওরকম অবস্থাতেই আছে। তবে আমরা আশাবাদী, প্লান্টটি চালু হবে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই। রোগীদের ভরসা বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসে সাধারণ মানুষ। জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো আগের থেকে অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তিনতলা ভবন। আছে ২৪টি বেড বিশিষ্ট সিসিইউ ব্লক। এখানকার পরিষেবা নিয়ে লোকজনের সেরকম বড় কোনও অভিযোগ নেই বললেই চলে।

সিসিইউ বেডে চিকিৎসাধীন রোগীদের ২৪ ঘণ্টাই অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। এছাড়াও সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ে রয়েছে অস্ত্রোপচারের কক্ষ। সেখানে সবসময় অক্সিজেন মজুত রাখতে হয়। তাছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা হয়। ফলে হাসপাতালে অক্সিজেনের একটা বিপুল চাহিদা রয়েছে।

এদিকে, করোনা সংক্রমণকালে হাসপাতালে অক্সিজেনের চাহিদা একলপ্তে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। ফলে সেই সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই রাজ্য সরকার বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা করে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো বালুরঘাট জেলা হাসপাতালেও প্লান্ট বসানো হয়। তিনতলা ভবনে প্লান্ট থেকে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য পাইপ লাইনও বসানো হয়। শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্ডেও এর কাজ হয়।

২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি রায়গঞ্জের সভা থেকে ভার্চুয়ালি এই প্লান্টের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর কেটে গেলেও প্লান্ট থেকে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হল না। অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলি পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ প্রদীপ পাল বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হলেও কাজে আসছে না। আসলে উদ্যোগের কোথাও ঘাটতি রয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ