Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালুরঘাট: পাঁচদিন ধরে পুরসভায় নেই চেয়ারম্যান অশোক, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ‘বিদ্রোহীরা’

পাঁচদিন ধরে পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। ফলে তারই ওয়ার্ডের বেশকিছু বাসিন্দা সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরছেন।

বালুরঘাট: পাঁচদিন ধরে পুরসভায় নেই চেয়ারম্যান অশোক, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ‘বিদ্রোহীরা’
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: পাঁচদিন ধরে পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। ফলে তারই ওয়ার্ডের বেশকিছু বাসিন্দা সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরছেন। এদিকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা কাউন্সিলারও দুপুরবেলায় পুরসভায় আসছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে সকালের দিকে পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। এই সমস্যা মেটাতে  অনেক বিদ্রোহী এমসিআইসিরা তৎপর হয়েছেন। শুক্রবার পুরসভায় দুই এমসিআইসি মিলে চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডের সমব্যথী ফর্মের জন্য নির্দিষ্ট সার্টিফিকেটও দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

চেয়ারম্যানের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোবিন্দ মহন্ত বলেন, আমার মাসি মারা গিয়েছেন। চেয়ারম্যানকে পাচ্ছি না। পুরসভায় শুক্রবারও পেলাম না। অন্য ওয়ার্ডের এমসিআইসি মহেশ পারেখ সার্টিফিকেট দিয়েছেন। বিদ্রোহী কাউন্সিলারের মধ্যে একজন এমসিআইসি বিপুলকান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, যিনি চেয়ারম্যানের চার্জে আছেন, তিনিও আজ দেরি করে এসেছেন। তাই যাঁরা ঘুরে যাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আমি সার্টিফিকেট দিয়েছি। যদিও দেরিতে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যানের চার্জে থাকা কাউন্সিলার নীতা নন্দী। তাঁর বক্তব্য, আমি সকাল থেকে পুরসভাতেই রয়েছি। আমার কাছে কেউ আসেননি। 
এবিষয়ে অশোক মিত্র বলেন, আমি বাইরে রয়েছি। আশা করছি, শনিবার পুরসভায় ঢুকব। পরিষেবা না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছেন, এমন খবর নেই। শুধুমাত্র একজন ফোন করেছিলেন, তাঁকে সার্টিফিকেট দিতে এমসিআইসি মহেশকে জানিয়েছিলাম। তিনি দিয়েছেন। বাকি কারা ঘুরছেন এবং সার্টিফিকেট দিলেন, তা জানি না। তবে আমার ওয়ার্ডে গেলেই মানুষ সার্টিফিকেট পাবেন। দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানের কাছেও সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। 
বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সাতদিন কেটে গিয়েছে। গত সোমবার থেকে বালুরঘাট পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের পরেই বিদ্রোহী কাউন্সিলাররাও গায়েব হন। ফলে সব ওয়ার্ডের সার্টিফিকেট ইস্যু করা নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছিল। যদিও বিদ্রোহী ১৫ জন কাউন্সিলার এসেছেন পুরসভায়। কিন্তু চেয়ারম্যানের এখনও দেখা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিলেও এখনই সেই ভাবনা নেই চেয়ারম্যানের। সময়সীমার আগেই বৈঠকের মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে অনাস্থা তুলবেন? নাকি অন্য কোনওভাবে নিজের পদ বাঁচাবেন চেয়ারম্যান? এনিয়ে রীতিমতো স্নায়ুযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান অশোক। তবে মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। দলীয় সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি সামাল দিচ্ছে রাজ্য নেতৃত্ব। এই অবস্থায় বিদ্রোহীদের মান ভাঙিয়ে কাছে টানা ছাড়া আর উপায় দেখছেন না চেয়ারম্যান। বিদ্রোহীদের মধ্যে কাকে কাছে টানা যায়, সেদিকটাই এখন দেখছেন অশোকপন্থীরা। পাল্টা বিদ্রোহীরাও তলে তলে জোট বাঁধছেন। অশোকপন্থী থেকে আর কোন কাউন্সিলারকে নিজেদের দলে টানা যায়, সেদিকটা দেখছেন বিদ্রোহীদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন কি না, সেদিকে তাকিয়ে সবাই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ