Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীঘ্রই বক্রেশ্বর সেতু সংস্কার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে যান চলাচল, বিকল্প কজওয়ের কাজ শুরু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের

সেতুর গায়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘দুর্বল সেতু’। পিচ উঠে গিয়ে রাস্তার কঙ্কালসার দশা।

শীঘ্রই বক্রেশ্বর সেতু সংস্কার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে যান চলাচল, বিকল্প কজওয়ের কাজ শুরু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সেতুর গায়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘দুর্বল সেতু’। পিচ উঠে গিয়ে রাস্তার কঙ্কালসার দশা। এমনকি ব্রিজের গার্ডওয়াল যাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে না পড়ে তারজন্য যত্রতত্র বাঁশের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে! উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বক্রেশ্বর সেতুর এই জরাজীর্ণ ছবিটাই এখন বদলাতে চলেছে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বক্রেশ্বর সহ এই জাতীয় সড়কের উপর থাকা মোট ১৩টি রুগ্ন সেতু সংস্কারের কাজ শুরু করল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ছোটো গাড়ি এই পথেই যাতায়াত করে। প্রায় দু’দশক আগে এটি জাতীয় সড়কের তকমা পায়। তবে পরিকাঠামোর বিশেষ উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে অত্যধিক ওভারলোডেড পাথর ও বালির ট্রাক চলাচলের চাপে সেতুগুলির কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমনিতেই বেহাল জাতীয় সড়ক। তার উপর সদাইপুরের বক্রেশ্বর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে ব্রিজের উপরের পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। সেতুর দু’ধারে গার্ডওয়ালগুলির অবস্থাও শোচনীয়। কোনোমতে দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে সেই ভাঙা অংশগুলি। স্থানীয়দের ক্ষোভ, বর্ষা এলেই সেতুর ওই গর্তে জল জমে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।

Advertisement

ছোটো গাড়ি বা বাইক আরোহীরা হামেশাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জখম হন। এই জরাজীর্ণ দশা নিয়ে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ও একাধিকবার সরব হন। অবশেষে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে জেলাবাসী।জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু এটি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, তাই কোনোভাবেই রাস্তা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। সেকথা মাথায় রেখেই বক্রেশ্বর সেতুর মূল সংস্কার শুরু করার আগে পাশেই তৎপরতার সঙ্গে বিকল্প রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। বক্রেশ্বর নদীর উপর বড় বড় হিউম পাইপ বসিয়ে একটি ‘ভাসা সেতু’ বা কজওয়ে তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে সেই কজওয়ে তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এক কর্তা বলেন, এই অস্থায়ী পথটি তৈরি হয়ে গেলেই মূল সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে পুরোদমে মেরামত শুরু হবে।কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, শুধু বক্রেশ্বরই নয়, বীরভূমের ভীমগড় থেকে মোড়গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের উপর থাকা ছোটো-বড়ো মোট ১৩টি সেতুর হাল ফেরানো হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রতিটি সেতুই অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে এগুলির আমূল সংস্কার করা হবে যাতে আগামী দিনে ভারী যান চলাচলের চাপ অনায়াসেই সইতে পারে। তবে সংস্কারের কাজ চলাকালীন ওই অস্থায়ী সেতুতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভারী বর্ষায় সেই রাস্তার স্থায়িত্ব বজায় রাখাটাই এখন জেলা প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ