নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সেতুর গায়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘দুর্বল সেতু’। পিচ উঠে গিয়ে রাস্তার কঙ্কালসার দশা। এমনকি ব্রিজের গার্ডওয়াল যাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে না পড়ে তারজন্য যত্রতত্র বাঁশের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে! উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বক্রেশ্বর সেতুর এই জরাজীর্ণ ছবিটাই এখন বদলাতে চলেছে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বক্রেশ্বর সহ এই জাতীয় সড়কের উপর থাকা মোট ১৩টি রুগ্ন সেতু সংস্কারের কাজ শুরু করল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ছোটো গাড়ি এই পথেই যাতায়াত করে। প্রায় দু’দশক আগে এটি জাতীয় সড়কের তকমা পায়। তবে পরিকাঠামোর বিশেষ উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে অত্যধিক ওভারলোডেড পাথর ও বালির ট্রাক চলাচলের চাপে সেতুগুলির কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমনিতেই বেহাল জাতীয় সড়ক। তার উপর সদাইপুরের বক্রেশ্বর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে ব্রিজের উপরের পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। সেতুর দু’ধারে গার্ডওয়ালগুলির অবস্থাও শোচনীয়। কোনোমতে দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে সেই ভাঙা অংশগুলি। স্থানীয়দের ক্ষোভ, বর্ষা এলেই সেতুর ওই গর্তে জল জমে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।



