নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোনও হোটেলে ১৫টির মধ্যে বুকিং হয়েছে মাত্র তিনটি ঘর। ১০টি রুমের হোটেলে মাত্র দু’টি ঘর বুকিং হয়েছে, এমন উদাহরণও একাধিক। পুজো শুরুর আড়াই সপ্তাহ আগেও বকখালিতে হোটেল বুকিংয়ের এমনই করুণ চিত্র সামনে এসেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঝাড়গ্রাম—প্রায় সর্বত্র যখন ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা, তখন কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকত থেকে কার্যত মুখ ফিরিয়েছেন পর্যটকরা। ফলে পুজোর দোরগোড়ায় চরম হতাশা গ্রাস করেছে হোটেল ব্যবসায়ীদের। আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি খুব যে বদলাবে, এমনটাও আশা করছেন না তাঁরা।
বকখালিজুড়ে সরকারিভাবে নথিভুক্ত রয়েছে প্রায় ৮০টি হোটেল ও লজ। বুকিং নিয়ে সবারই এখন এক অবস্থা। হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে পুজোর দিনগুলিতে তুলনামূলক ভালো বুকিং হয়েছিল। এ বছরই ব্যতিক্রম। কেন এবার এই অবস্থা, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। মাসখানেক আগেও স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে ভালো সংখ্যায় পর্যটক এসেছিলেন বকখালিতে। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে কেন বিমুখ রইলেন তাঁরা, সেটাই ভাবাচ্ছে আমাদের।’ তাঁরা আরও জানান, বুকিং তো দূরের কথা, এবার ভ্রমণার্থীরা হোটেলে ফোন করে প্রাথমিক খোঁজখবরও নিচ্ছেন না তেমন। ফলে তাঁরা ধরেই নিয়েছেন, এবার পুজোয় খালিই পড়ে থাকবে সিংহভাগ ঘর। বকখালি ফ্রেজারগঞ্জ হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবরাজ জানা বলেন, ‘করোনার পর থেকে এত খারাপ বুকিংয়ের হাল কখনও হয়নি। সাধারণত পুজোর সময় স্পট বুকিং হয় না। তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে, বাকি ১৫-২০ দিনের মধ্যে খুব একটা বদলাবে না চিত্র।’ তবে পুজোর পর তুলনামূলক ভালো বুকিং আছে বলে জানান তিনি।
একটা সময় বকখালি সৈকতে বেড়াতে এলে ধরাবাঁধা দু’টি জায়গা ছিল দ্রষ্টব্য। ফ্রেজারগঞ্জ এবং হেনরি আইল্যান্ড। কিন্তু এখন আরও নতুন দু’টি সৈকতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। লাল কাঁকড়া ও কার্গিল বিচ। অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে এই দু’টি জায়গা নিয়ে। তারপরও কেন পর্যটকরা বকখালি আসতে চাইলেন না, সেটাই প্রশ্ন হোটেল মালিকদের। -নিজস্ব চিত্র