নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: থিমপুজোর আড়ম্বরে বহু বছর আগেই নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে বৈদ্যবাটি-শেওড়াফুলি। সময়ের সঙ্গে পুজোর গায়ে লেগেছে জৌলুসের চড়া চাদর। রকমারি থিম, আলোকসজ্জার আড়ম্বরে এবারও একগুচ্ছ বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজন হয়েছে বৈদ্যবাটিতে। স্থানীয় স্তরের চর্চা থেকে আকর্ষণের বলয় ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। পুজো মরশুমে টই-টইয়ের তালিকায় তাই বৈদ্যবাটি সফর থাকা অনিবার্য। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈদ্যবাটির অধিকাংশ পুজোই পঞ্চাশ বছর পার করেছে। ফলে, থিমের মুন্সিয়ানা দেখাতে চেষ্টার কসুর করছেন না কোনো পুজো উদ্যোক্তাই। আড়েবহরে বড়ো বা ছোটো, পুজোর আয়োজনে থিমের ছোঁয়াচ থাকছেই।
বৈদ্যবাটি সর্বজনীন (ব্যাংকের গলি) দুর্গোৎসব সমিতির এবারের চমকের নাম— শিল্পরূপী দুর্গা। বস্তুত পাল আমলের টেরাকোটার শিল্পকে সযত্নে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। এক কথায় নিপুন শিল্পকর্মের এক অপরূপ ভাষ্য নির্মাণ হচ্ছে। মণ্ডপটি পাল আমলের টেরাকোটার মন্দির। বলা বাহুল্য, মন্দিরের ভিতরে-বাইরে সাবেক শিল্পের যে পারদর্শিতা আজও মুগ্ধ করে, তার বিপুল আয়োজন থাকছে। মন্দিরের অন্দর ও বাহিরসজ্জায় ব্যবহার করা হবে টেরাকোটার প্রচুর মডেল।
মন্দিরের দেওয়াল জুড়ে থাকবে বর্ণময় টেরাকোটার সাজ। অসঙ্গতির মধ্যে দিয়ে নজরকাড়ার কায়দা এখানে দেখা যাবে। সম্পূর্ণরূপে থিম নির্ভর মণ্ডপসজ্জায় দেবী থাকবেন সাবেক সাজে। সমস্ত শিল্পকলাকে ফুটিয়ে তুলতে বিপুল আলোকসজ্জার আয়োজন থাকছে। পুজোর উদ্যোক্তা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শিল্পরূপী দুর্গাকে শিল্পময় মণ্ডপে আমরা হাজির করব। আলোকসজ্জার যোগ্য সঙ্গতে যা নজর কাড়বেই।
চমকের পসরা সাজাতে কার্পণ্য করছে না সরকারপাড়া সর্বজনীনও। ৭১ বছরে পা দেওয়া এই পুজোর ভরসা শিল্পকলা। তবে সরকারপাড়ার পুজো উদ্যোক্তারা রাজ্য ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন রাজস্থানে। রাজস্থানী লোকসংস্কৃতি, লোকশিল্পের এক বর্ণময় আখ্যানই এখানকার থিম। বিমূর্ত মণ্ডপকে রাজস্থানী শিল্প-সংস্কৃতির মোটিফে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
দেবী প্রতিমা এখানে মৃণ্ময়ী। কিন্তু তাঁর সাজেও থাকবে রাজস্থানী ঘরনার ঘনঘটা।
আধুনিক আদলের প্রতিমা ও এক টুকরো রাজস্থানকে মায়াময় করতে আলোসজ্জায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। আবার পৃথকভাবে শিশুদের আকর্ষণ করতে আলোকসজ্জায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। এখানকার আলোকসজ্জার থিম, বন্যপ্রাণ। খরগোশ, হাতি, বাঁদরের সমাবেশ দেখা যাবে আলোর সাজে। পুজোর উদ্যোক্তা শ্যামল দাস বলেন, আমরা থিমের মায়ানগরী গড়ার চেষ্টা করছি। দর্শকদের তা পছন্দ হবেই।
থিমময় বাংলার পুজোয় কোনো কিছুই ব্রাত্য নয়। বৈদ্যবাটির চৈতালি সংঘ থিম করেছে চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশনকে। ৫৮ বছরে পা দেওয়া পুজোর মণ্ডপ গড়া হচ্ছে মিশনের অবয়বকে সামনে রেখে। প্রায় ৬০ ফুট প্রসারিত মণ্ডপের উচ্চতা ৪৫ ফুট। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব উপকরণ। একগুচ্ছ মডেলের ব্যবহারে মণ্ডপসজ্জাকে আকর্ষণীয় করার যাবতীয় ব্যবস্থার তোড়জোড় এখন তুঙ্গে। পুজো উদ্যোক্তা বিলাস পাল বলেন, মণ্ডপে দেবী থাকবেন আধুনিক আদলে। আর সামগ্রিকভাবে মনোহরণ আলোকসজ্জা থাকবে।
বৈদ্যবাটি, শেওড়াফুলি পুরানো জনপদ। আধুনিকতার উতল হাওয়াতেও এঁদোগলি, পুরানো বাড়ির সমাহার চোখে পড়ে। কিন্তু আপাতত থিমপুজোর দাপটে ভোল বদলেছে শহর। শিউলির গন্ধ যত গাঢ় হচ্ছে, তত জমাট বাঁধছে মায়ানগরীর মায়া।



