সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে শীতের আবেশ মাখা সন্ধ্যায় অভিনব ফ্যাশন শো করে তাক লাগালেন তিন স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকা। ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চে নৃত্য-নাটিকার মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর জীবন কাহিনি উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে ক্যানসারে প্রয়াত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার মা শিখা শর্মা মেয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগে বুক ভাসালেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম কারিগর স্কুল শিক্ষক বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গতবছর র্যাম্পে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের হাঁটিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম। সেদিন বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আবেগে ভেসেছিলেন। এবারের ‘ফ্যাশন ফিভারের’ আয়োজন ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মনোবল বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই। তাঁদের কুর্নিশ জানাতে।
বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায়, পৌলমী মণ্ডল ও সিম্পা নাথ তিনজনই স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকা। তাঁদের সহজাত পরিকল্পনায় বহরমপুরবাসী এক অভিনব ফ্যাশন শোয়ের সাক্ষী থাকল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহ ঘনঘন দর্শক আসনের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। কিডস, বালক ও বালিকা বিভাগে মোট ২৯ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী এসেছিল কলকাতা থেকে। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত কিডস বিভাগে প্রতিযোগীরা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতির ধারক হয়ে মঞ্চ দাপায়। তাদের পোশাকেও সেই রাজ্যের ছোঁয়া ছিল। বড়দের বলিউড বিভাগে প্রতিযোগীরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাজ পোশাকের নকল করে র্যাম্পে হাঁটলেন। পৌলমী বলেন, তিনটি বিভাগই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। দর্শকদের করতালিতেই আমরা সাফল্যের স্বাদ পেয়েছি।
র্যাম্পে হাঁটার পাশাপাশি একটি নৃত্য নাটিকা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে এক ক্যানসার আক্রান্তের জীবন যুদ্ধকে তুলে ধরা হয়। বেশ কয়েকজন ক্যানসার আক্রান্তকেও মঞ্চে হাজির করা হয়েছিল। সিম্পা বলেন, ক্যানসারের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করেও যাঁরা মনোবল হারাননি, আমরা তাঁদের স্যালুট জানাই। আমরা তাঁদের পাশেই রয়েছি। আগামী দিনেও থাকব এই আমাদের অঙ্গীকার। নিজস্ব চিত্র