নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চোখ ব্লিঙ্ক করলে তবে ছবি উঠবে। কারও পাসপোর্ট সাইজের ছবি এনে সেটি থেকে ছবি তুলে মেম্বার করে দেবেন, সেটা আর হবে না। আমরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সংগঠনের যাবতীয় কাজ এমন জায়গায় নিয়ে যাব তাতে বিশ্বের সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে উদাহরণ হবে বিজেপি, দাবি করলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে বুথ স্বশক্তিকরণ কর্মসূচিতে এসে বহরমপুরের গ্রান্ট হলে নিচুতলার নেতা কর্মীদের হাতে মাইক দিয়ে তাদের পারফরমেন্সের ব্যাপারে নিজেই জিজ্ঞাসাবাদ করলেন সুকান্তবাবু। দলের অভ্যন্তরীণ এই বৈঠকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলে খুব একটা সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি নিজেই দাওয়াই ঘোষণা করলেন। বুথ কমিটি করার ক্ষেত্রে যে অনিয়ম হচ্ছে তাতেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে দিলেন সভাপতি।
গোপন বৈঠকে রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, নতুন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে। তার মাধ্যমে আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। নতুনভাবে অভিযানের নামা হবে। প্রথমে বুথ স্বশক্তিকরণ হবে। সেখানে যারা বুথ কমিটির সদস্য হবে তাদের ভোটের কার্ড এবং ছবি ওই অ্যাপ্লিকেশনে তুলে ধরা হবে। সুতরাং অন্য জেলার কারও একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি থেকে ছবি তুলে আর জালিয়াতি করা যাবে না।
রাজ্য সভাপতির এই ঘোষণাই প্রমাণ করে দেয়, জল মিশিয়ে সদস্যপদ, এমনকী বুথ কমিটির সদস্য সংগ্রহ করেছে নিচুতলার নেতাকর্মীরা। ফলে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিজেপির যে লক্ষ লক্ষ সদস্য পদ সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল। অনেকেই আত্মীয়স্বজন এবং অন্যান্য জেলার বাসিন্দাদের ফোন থেকে মিসড কল দিয়ে সদস্য বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্য সভাপতি এদিন বুথ কমিটির সদস্যদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যাতে এমনটা না হয় সেজন্য সতর্ক করেন নেতাকর্মীদের। বুথ কমিটির সদস্য করার ক্ষেত্রেও ভোটার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করতে হবে ওই আপ্লিকেশনে। যে ব্যক্তি সদস্য হবে তার লাইভ ছবিও নেওয়া হবে সেখানে।
সুকান্তবাবুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যখন অ্যাপ্লিকেশন আসবে তখন ঠিক জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে আধার কার্ড দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে নাম নথিভুক্তিকরণ গোটা দেশের মধ্যে আমাদের পার্টিতেই চালু করা হচ্ছে। পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে এটা হবে। আমি রাজ্য সভাপতি, আমার নাম উল্লেখ আছে। জেলা সভাপতি যে, তার নাম উল্লেখ আছে। বুথ কমিটি হলে বুথ সভাপতিদের নাম উল্লেখ থাকবে। অ্যাপ খুলব এবং সেখানে যাবতীয় তথ্য থাকবে। সেখান থেকে ডাইরেক্ট কল করা যাবে এবং হোয়াটসঅ্যাপ করা যাবে। বিজেপি পার্টি প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক উন্নত। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে চলেছি।
তৃণমূলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, এতদিন যেভাবে সদস্য করেছে তাতে যে জল ছিল সেটা ওরা ভালো মতো জানে। দিল্লির নেতারা বুঝে গিয়েছে যে, বাংলায় বিজেপির নেতাদের দিয়ে কিছু হবে না। লোক নেই বলে পাসপোর্ট ছবি এনে এসব লোক বাড়ানোর পদ্ধতি চালু করেছিল। এখন আবার নতুন পদ্ধতি বাজারে আনছে। কোনওটাই হিট হচ্ছে না। আসলে যত দিন যাচ্ছে, ওদের পায়ের তলার মাটি সরছে। -নিজস্ব