সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: অবহেলায় পড়ে রয়েছে বাঘমুণ্ডির দেউলি গ্রামের দেউলগুলি। কয়েকশো বছরের পুরনো মন্দির ও জৈন মূর্তিগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি ‘ইরগুনাথ’ নামে গ্রামে পূজিত হলেও পর্যটক এবং গবেষকদের কাছে প্রাচীন স্থাপত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। পর্যটকরা গেলেও মন্দির সম্পর্কিত দিকনির্দেশ বা প্রাচীন স্থাপত্য সম্পর্কিত কোনও বর্ণনার বোর্ড না থাকায় হতাশ হয়েই ফিরতে হয় পর্যটকদের। প্রাচীন ওই মূর্তি এবং মন্দিরের সংস্কার করার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি ব্লকের সুইসা তুনতুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দেউলি গ্রাম। ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী ওই গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরেই রয়েছে সুবর্ণরেখা নদী। দেউলি গ্রামের এক প্রান্তে রয়েছে দেউলগুলি। গবেষকদের মতে প্রায় দশম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই স্থাপত্য। মূল স্থাপত্যের ভিতরে রয়েছে একজন জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি। প্রায় তিনফুট লম্বা ওই মূর্তি। ওই মন্দির থেকে প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যেই পুকুর পাড়ে রয়েছে হাতির উপর বসে থাকা এক নারী মূর্তি। পুকুর পাড়েই ছোট একটি ঘরে ওই মূর্তি রয়েছে। প্রায় চার দশকেরও বেশি আগে একবার দেউলি গ্রামের মূর্তিগুলি আলাদা জায়গার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপর আর কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত মন্দিরগুলির সংস্কারের পাশাপাশি ওই এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে সবাইকে জানানোর জন্য সরকারের তরফে ইতিহাসের উল্লেখ করে বোর্ড দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে ওই এলাকা ঘিরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং গাইড নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জামিনী প্রামাণিক, অবনী বন্দ্যোপাধ্যায়, জগবন্ধু দাস বলেন, জৈষ্ঠ্য মাসের সংক্রান্তির দিনে মন্দির প্রাঙ্গণেই মেলা বসে এবং পুজো হয়। ইরগুনাথ বাবার মূর্তি রয়েছে। সন্তান লাভের আসায় দূর দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত পুজো দিতে আসেন। তাঁরা আরও বলেন, ইরগুনাথ বাবার স্ত্রী হিসেবে পুকুর পাড়ে থাকা ‘নাকটি ঠাকরানের’ পুজো হয়। ওই দেবীর নাক কাটা রয়েছে। কথিত আছে নাকটি ঠাকরান রাগ করে পুকুর পাড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেসময় থেকেই তাঁর নাক কাটা। অবনীবাবু আরও বলেন, মন্দির এবং প্রাচীন এই মূর্তিগুলি সংরক্ষণের কোনও উদ্যোগই দেখা যায়নি। এলাকার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই প্রাচীন এই মন্দিরের সংস্কার জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, শুনেছি কয়েকদশক আগে একবার গোটা এলাকার সার্ভে হয়েছিল। সংস্কার হওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছিল। কিন্তু, তারপর আর কিছু কাজ হয়নি।
তুনতুড়ি সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অষ্টমী কুইরি বলেন, প্রাচীন ওই মন্দিরগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এলাকার ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। গোটা বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। -নিজস্ব চিত্র