সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পরিয়ায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল বাঘমুণ্ডির এক শ্রমিকের। একই সঙ্গে কাজ করতে যাওয়া অপর এক যুবকের খোঁজ মিলছে না। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম নন্দলাল ঘাটুয়াল(৪৫)। তাঁর বাড়ি বাঘমুণ্ডির সুইসা তুনতুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নওয়াডিতে। মৃতদেহ বাড়ি আনা হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে একই গ্রামের সন্তোষ ঘাটুয়াল ওরফে মিঠুনের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দলালবাবু, মিঠুন সহ আটজন গত শনিবার বাড়ি থেকে বের হন। প্রত্যেকেই নির্মাণ কর্মী হিসেবে চেন্নাইয়ে যান। নন্দলালবাবুর জামাই হরিহর ঘাটুয়াল বলেন, ফোনে শুনেছিলাম শ্বশুরমশাইয়ের মাথা ব্যথা করছে। অসুস্থতার কথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন। তারপর মঙ্গলবার মৃত্যুর খবর পেলাম। কীভাবে কী হয়েছে তা বিস্তারিত জানি না। ওখানে থাকা অন্যান্যরা শ্বশুরমশাইয়ের মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে। তারপরই বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ওদের সঙ্গেই থাকা মিঠুন নিখোঁজ রয়েছেন। থাকার জায়গা থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের এড়িয়ে কোথাও চলে গিয়েছেন কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না। এবিষয়ে মিঠুনের ভাগ্নি বিজয়া ভুঁইয়া বলেন, মামা শনিবার চেন্নাই যাওয়ার জন্য কয়েকজনের সঙ্গেই বের হন। কাজের জায়গায় পৌঁছেও ছিলেন। তারপর তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হচ্ছে না। সেখানে থাকা বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁর মোবাইলও বন্ধ। কাজের জায়গা থেকে মামা কোথায় গিয়েছেন, কোনও বিপদ হয়েছে কি না, তা কেউ বলতে পারছেন না। দ্রুত মামাকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। তুনতুড়ি সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অষ্টমী কুইরি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেই বিষয়টি শুনেছি। একই গ্রামের কয়েকজন একসঙ্গে কাজে গিয়েছিলেন। তারপর সেখানেই ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারগুলির পাশে রয়েছি।