সংবাদদাতা, কাঁথি: সুবর্ণরেখা নদীর জলে ফের প্লাবিত হয়েছে রামনগরের বাধিয়া ও এগরার সাহাড়া পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রাম। গালুডি জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণে সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে একইভাবে সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে প্লাবিত হয়েছিল এই এলাকা। মাঝে বৃষ্টি কমায় জল অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে নিম্নচাপের কারণে লাগাতার বৃষ্টি আর ফের জল ছাড়ায় এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। এলাকার বহু মানুষ জলবন্দি। প্রতি বছরই সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জল নামতে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জল-যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি চাইছেন। তাঁদের দাবি, প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।
রামনগর-১ ব্লকের বাধিয়া পঞ্চায়েতের বাধিয়া, বারবাটিয়া, বাখারপুর, কাণ্ডগ্রাম, কচুয়া প্রভৃতি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। যাতায়াতের মূল রাস্তা তো বটেই, চাষের জমি, পুকুর, মাছের ভেড়ি, পানের বরজ সবই জলের তলায়। বসতবাড়িগুলিও চারদিক থেকে জলবন্দি। পানীয় জলের নলকূপগুলিও জলের তলায়। চার-পাঁচদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। এই সমস্ত গ্রামের এক হাজারের কাছাকাছি পরিবার জলবন্দি হয়ে রয়েছে। এতদিন ধরে জলবন্দি পরিস্থিতি থাকায় আবর্জনা, লতাপাতা, মরা মাছ পচে এলাকায় দূষণ ও দুর্গন্ধ ছড়াতেও শুরু করেছে। এর ফলে বসবাস করাই যেন দায় হয়ে পড়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে শিশুরা। তারা কোনওরকমে যাতায়াত করছে। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ওই গ্রামগুলিতে ত্রাণ বিলি করা হয়। ৮৫০টি পরিবারের হাতে খাদ্য সহ অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাইচরণ সার সহ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। প্রতিবছরই জলমগ্ন পরিস্থিতি হয়, তাই ঘরবাড়ি বেশ কিছুটা উঁচুতেই করেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে রাস্তাঘাট, চাষের জমি রক্ষা পায় না।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, একাধিবার গালুডি জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলেই এই পরিস্থিতি। আগামী দিনে সুবর্ণরেখা নদীর জল যাতে এলাকায় ঢুকে প্লাবিত করতে না পারে, তারজন্য বাধিয়ার কাছে ওড়িশা সীমান্তে লকগেট থেকে এগরার চকপুকুরিয়া পর্যন্ত উঁচু মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এলাকায় একটি স্লুইস গেটও নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা তিন থেকে চার ফুট উঁচু করার জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জল নামলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
সুবর্ণরেখার জল উপচে এগরা-১ ব্লকের সাহাড়া পঞ্চায়েতের সাহাড়া, চকমুরারী, পল্লিশ্রী গ্রামেও একই পরিস্থিতি। এলাকার রাস্তাঘাটে হাঁটুসমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। ভেসেছে মাছের ভেড়ি, পুকুর, রাস্তাঘাট সবকিছু। বিডিও দুর্গাপ্রসাদ ঘোষ বলেন, প্রশাসনের তরফে জলবন্দি এলাকায় যাতায়াত করার জন্য টিউবের ভেলা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে কিছু জায়গায় চুন ও ব্লিচিং ছড়ানো হয়েছে। যেসব বাসিন্দা জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাঁদের জন্য ত্রাণের চাল-ডাল ও ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।