সংবাদদাতা, মানকর: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় বুদবুদের ভিতর দিয়ে যাওয়া পুরনো জাতীয় সড়ক। রাস্তাজুড়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। বর্ষায় জল জমছে গর্তে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গলসি-১ব্লকের বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার করা হোক। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তাটি নতুনভাবে তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই প্ল্যান জমা দেওয়া হয়েছে।
একসময় পুরনো জাতীয় সড়ক পানাগড় হয়ে বুদবুদের ভিতর দিয়ে বর্ধমানে যেত। সেই সময় সেটি ২নম্বর জাতীয় সড়ক বলে সকলের কাছে পরিচিত ছিল। পরে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বুদবুদের পাশ দিয়ে নতুন বাইপাস তৈরি করা হয়। বর্তমানে জাতীয় সড়কটির নম্বরও পরিবর্তন হয়েছে। এখন এটি ১৯নম্বর জাতীয় সড়ক বলে পরিচিত। আলাদা করে বাইপাস তৈরি হলেও বুদবুদের ভিতর দিয়ে গুসকরা, বর্ধমান ও আসানসোলগামী বাসগুলি নিয়মিত যাতায়াত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের থেকে গাড়ি চলাচলের চাপ কমলেও এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তা। কিন্তু, দীর্ঘদিন রাস্তাটির কোনও সংস্কার হয়নি। দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
গলসির বাসিন্দা সুরজ খান বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করি। কিন্তু, সাধুডাঙার কাছে রাস্তার অবস্থা একেবারেই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। রাতের অন্ধকারে বোঝা যায় না। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্য এক বাসিন্দা বলেন, আগের থেকে গাড়ির চাপ কমলেও এই রাস্তায় প্রচুর বাস, লরি এবং ভারী গাড়ি চলাচল করে। বেশকিছু জায়গায় পিচ উঠে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগে জাতীয় সড়ক থেকে এই রাস্তা ধরে মানকর, অমরারগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো। কিন্তু, এখন জাতীয় সড়কের পাশেই সার্ভিস রোড করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই রাস্তা ধরেই মানকর, গুসকরা যাওয়া যাচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়িগুলি সার্ভিস রোড দিয়ে গেলেও বাস এই রাস্তা দিয়েই যায়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় যাত্রীদের ঝাঁকুনি সহ্য করতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি গলসি-১ ও আউশগ্রাম-২ব্লকের বাসিন্দাদের একাংশ বুদবুদ বাজারের উপর নির্ভরশীল। এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব্জি নিয়ে বাজারে আসেন ব্যবসায়ীরা। সেনা জওয়ানরা নিয়মিত বাজার করেন বুদবুদ থেকেই। বেহাল রাস্তার জন্য সকলেরই সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার হাল ফিরলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সুবিধা হবে।গলসি-১ব্বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে অবগত রয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র