ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ৫২- এর ভাষা শহিদ আবুল বরকতের জন্মভিটে সালার থানার বাবলা গ্রামের বাসিন্দারা। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি তাঁরা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রতিবাদ আন্দোলনও গড়ে তুলছেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার পরিচালিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ছোট থেকে বড় সকলেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা আন্দোলনের ডাক উৎসাহ বাড়াচ্ছে তাঁদের।
৫২-এর ভাষা শহিদ আবুল বরকতের জন্মভিটে বাবলা গ্রাম। শহিদের ছেলেবেলার স্মৃতি এখনও জড়িয়ে রয়েছে গ্রামের আনাচে কানাচে। প্রতিবছর গ্রামে শহিদ স্মৃতিতে বড় আকারে ভাষা দিবস পালন করা হয়। আমন্ত্রিত থাকেন বাংলাদেশের নাগরিকরাও। বাংলা ভাষার গৌরব নিয়ে অনুষ্ঠানে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্টজনেরা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্মম অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসছে। ফুঁসছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে বাঙালি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বাবলা গ্রামের বাসিন্দারা। একজোট হয়ে আন্দোলনও গড়ে তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মহিবুল হোসেন বলেন, ‘অকারণে বাঙালিদের উপর অত্যাচার সহ্য করব না আমরা। এর প্রতিবাদে আমরা গ্রামের প্রতিটি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে আন্দোলন সংগঠিত করছি। আগামীতে এই আন্দোলন চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাইচ, এই ভাষা শহিদের গ্রাম থেকেই ফের আর একবার ভাষা আন্দোলন শুরু হোক।’ বাসিন্দারা জানান, নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র থাকা সত্বেও বাঙালিদের ডবল ইঞ্জিন সরকার পরিচালিত রাজ্যগুলিতে হেনস্থা করা হচ্ছে। এনিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চলছে সান্ধ্যকালীন আলোচনা। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সিয়াদত আলি বলেন, ‘যে বাংলা ভাষার জন্য আমার গ্রামের ছেলে প্রাণ দিয়েছেন, সেই শহিদের নামে গ্রামের প্রত্যেকে পরিবার শপথ গ্রহণ করে আন্দোলনে নেমেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর আক্রমণ আমরা মেনে নেব না। বাঙালিদের বিদেশি তকমা দিয়ে শুধু বাঙালি নয়, বাংলা ভাষারও অপমান করা হচ্ছে।’ গ্রামবাসী ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘আমরা চাই যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিক। কিন্তু এই রাজ্যের বাসিন্দাদের প্রমাণপত্র থাকা সত্বেও হেনস্তা করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ বাবলা গ্রামে শুধু পুরুষরাই নন, মহিলারাও এগিয়ে আসছেন আন্দোলনের প্রথম সারিতে। গৃহবধূ জাহানারা বেগম বলছিলেন, ‘এটি একটি ভাষার জন্য আন্দোলন। ওই আন্দোলনে আমরাও শামিল হতে পেরে গর্ববোধ করছি। মোবাইলের মাধ্যমে অন্য গ্রামের পরিচিতদেরও আন্দোলনে শামিল হওয়ার আবেদন করছি। গ্রামের ছাত্রছাত্রীরাও আন্দোলনে নেমেছে।’ সম্প্রতি ওই এলাকার কাগ্রামের দুই যুবক হরিয়ানায় কাজে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানে ফজর আলি ও আনোয়ার শেখ নামে দুই ভাই একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। তাঁদের হরিয়ানা পুলিস আটকে রেখে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র চেয়ে বসে। ওই দুই যুবকের বাবা ছবু শেখ বলেন, ‘ছেলেদের কাছে যাবতীয় প্রমাণপত্র থাকা সত্বেও আমাদের হয়রান হতে হয়েছিল। তবে, সমস্যা মিটে গিয়েছে। • নিজস্ব চিত্র