আগর কিসি চিজ কো দিল সে চাহো তো...! মঙ্গলবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে কি এই সংলাপই আওড়াচ্ছিলেন তিনি? নইলে ফিল্মের এক সাধারণ সংলাপের এমন বাস্তব চিত্রায়ণ কীভাবে সম্ভব? তবে না হওয়ারও কিছু নেই, তিনি তো শাহরুখ খান। নাম তো শুনা হি হোগা।
১ আগস্ট দিনটা প্রত্যেক শাহরুখ প্রেমী সোনালী অক্ষরে বাঁধিয়ে রাখবে। সেদিনই ৭১তম জাতীয় পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষিত হয়। জানা যায়, প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন শাহরুখ খান। ৩৩ বছর অপেক্ষার পর। আর কোন ছবির জন্য এল এই সাফল্য? ‘জওয়ান’। অ্যাটলি পরিচালিত এই সিনেমার ছত্রে ছত্রে শ্লেষ, রাজনীতির আপ্তবাক্য। ‘বেটে কো হাত লাগানে সে পহেলে বাপ সে বাত কর’, ‘...পাঁচ বছরের জন্য সরকার নির্বাচনের আগে ভালো করে ভাববেন না কেন?’ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে এমন সব ডায়লগ যে কেবল চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়নি, তা দুগ্ধজাত শিশুও বোঝে। ফলে সেই ছবির জন্য শাহরুখের জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা করেননি কেউই। তবে তিনি যে ‘বাদশা’। তিনিই তো শিখিয়েছেন, ‘হার কর জিতনে ওয়ালো কো বাজিগর কহেতে হ্যায়।’ কালো শেরওয়ানি, রোদচশমা পরে এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নেন তিনি। অভিনেতার পুরস্কার প্রাপ্তির পর সমাজমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন স্ত্রী গৌরী খান। লিখেছেন, ‘তোমার কঠিন পরিশ্রমের ফল পেলে।’ গৌরী জানিয়েছেন, জাতীয় পুরস্কার রাখার জন্য একটি বিশেষ কাপড় ডিজাইন করবেন তিনি। এতদিন পোল্যান্ডে ‘কিং’ ছবির শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন শাহরুখ। ফেরেন মঙ্গলবার সকালেই। অনুষ্ঠানে ঢোকার মুখেই দেখা হয় অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। করজোরে বন্ধুর সঙ্গে কুশল-বিনিময় করেন শাহরুখ। বিশেষ দিনে বলিউডের ‘রাহুল-টিনা’র এই মুহূর্তে দেখে আবেগপ্রবণ অনুরাগীরাও। এই দিনটা রানির জন্যও স্পেশাল। কারণ ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পেলেন তিনি। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’র জন্য এই প্রাপ্তি অভিনেত্রীর। ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি। এদিন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়া হল মেগাস্টার মোহনলালকে। দক্ষিণী সাজে তাক লাগিয়েছেন অভিনেতা। ‘ডিপ ফ্রিজ’ ছবির জন্য এদিন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার পেলেন বাঙালি পরিচালক অর্জুন দত্ত।



