Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি থেকে ডেকে এনে কিশোরকে খুন, গ্রেপ্তার দুই বন্ধু

বাড়ি থেকে ডেকে এনে কিশোরকে খুন, গ্রেপ্তার দুই বন্ধু
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বন্ধুর জন্য প্রাণ দেওয়ার কাহিনী বহুল প্রচলিত। সেই বন্ধুত্বই যদি প্রাণ কেড়ে নেয়! শিলিগুড়ির উত্তরপলাশের ঘটনা দ্বিতীয়টির যথার্থ উদাহরণ।
Advertisement
পরিকল্পিতভাবে এক কিশোরকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তারই দুই বন্ধু। প্রধাননগর থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম যোগেশে ওরাওঁ (১৭)। তাঁকে খুনের অভিযোগে ‘বন্ধু’ কার্তিক রায় এবং সন্তু ওরাওঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপলাশ ও চম্পাসারিতে।
মৃত কিশোরের পরিবারের দাবি, ১১ জানুয়ারি যোগেশকে অভিযুক্ত দুই বন্ধু বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের জানায়, ট্রাক্টর থেকে পড়ে গিয়ে যোগেশ গুরুতর জখম হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জখম কিশোরকে শিলিগুড়ি হাসপাতালে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই  পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। সোমবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। শিলিগুড়ি আদালতের সরকারি আইনজীবী সুদীপ রায়বাসুনিয়া বলেন, এদিন দুই যুবককে আদালতে তোলা হয়েছিল। তাদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 
কিশোরের কাকা বিকাশ ওরাওঁয়ের অভিযোগ, রাতে বাড়িতে এসে ওরা দু’জন আমার ভাইপোকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা ফোন করে জানায়, আমার ভাইপো নাকি দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, ভাইপোকে খুন করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ যোগেশের বাড়িতে যায় সন্তু এবং কার্তিক। তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে। একটি ট্রাক্টরে চেপে তিনজনে বেরিয়ে পড়ে। প্রায় রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ সন্তু যোগেশের বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর যায়। এটিকে দুর্ঘটনা বলে ওই দুজন সাজানোর চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ পরিবারের। খবর পেয়ে দেরি করেননি পরিবারের লোকেরা। উত্তরপলাশ সংলগ্ন রাস্তায় যান তারা। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, যোগেশ রাস্তায় পড়ে রয়েছে। দুই অভিযুক্ত যোগেশকে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত  ঘোষণা করেন। 
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্ঘটনা হয়েছে বলে দুই বন্ধু জানালেও যোগেশের দেহে কোনও কাঁটাছেড়ার দাগ ছিল না। গায়ে অন্যান্য চোট আঘাতের চিহ্নও মেলেনি। তা সত্ত্বেও কীভাবে দুর্ঘটনা সাজানোর চেষ্টা হচ্ছিল, সেই প্রশ্নই তুলেছে তারা। সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘটনার আসল কারণ সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন যোগেশের পরিবারের সদস্যরা। কিশোরের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ উত্তর পলাশ। ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত চেয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পর্কিত সংবাদ