আলোচনায় আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাঃ লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য
আলোচনায় আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাঃ লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য
ঠান্ডা জলের তুলনায় ঈষদুষ্ণ জলের উপকার বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ঠান্ডা জল আমাদের শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে। এছাড়া সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ঠাণ্ডা জল মোটেই ভালো নয়। ঠাণ্ডা জল খেলে হার্ট রেট হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হল ঠাণ্ডা জল একদম খাওয়া যাবে না? বিষয়টা তা নয়। কিছু কিক্ষু ক্ষেত্রে ঠান্ডা জল ভালো। ওয়ার্ক আউটের ফলে হার্ট রেট বেশি হয়ে গেলে তাঁরা একটু একটু করে ঠান্ডা জল খেতে পারে। অনিদ্রার সমস্যায় এটি উপকারি। ঠান্ডা জল শরীরের ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
কখন ঠান্ডা জল নৈব নৈব চ?
বাতের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন তাঁদের জন্য ঠান্ডা জল মোটেই ভালো নয়। সারা বছর ঈষদুষ্ণ জল পান করলে লাভবান হবেন তাঁরা। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, গরম জল শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। জ্বল হলে প্রথম দু’-একদিন ঈষদুষ্ণ জল পান উপকারি। সর্দি-কাশি, গলাব্যথায় মেলে আরাম। জ্বর থেকে শ্বাসকষ্ট হলে জলে তুলসিপাতা ফুটিয়ে তা ঈষদুষ্ণ অবস্থায় খাওয়া উপকারি।
চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা এবং অষ্টাঙ্গ হৃদয়- আয়ুর্বেদ চিকিৎসার এই তিন আকর গ্রন্থেই আমাদের দেহের ঘাড়ের উপরের অংশে গরম জল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। স্নানের ক্ষেত্রে এই অংশে সাধারণ ঘরোয়া তাপমাত্রার জল ভালো। দেহের বাকি অংশে এর ঠিক উলটো। এই অংশে ভালো ঈষদুষ্ণ জল। খুব গরম না পরলে সারাবছর এই নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।