Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসে দুর্নীতি নিয়ে সরব জাকির তৃণমূলেরই কাউন্সিলারের দিকে আঙুল

ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজে গিয়ে আবাস দুর্নীতি নিয়ে ফের সরব হলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন

আবাসে দুর্নীতি নিয়ে সরব জাকির তৃণমূলেরই কাউন্সিলারের দিকে আঙুল
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজে গিয়ে আবাস দুর্নীতি নিয়ে ফের সরব হলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন। সোমবার সকালে জঙ্গিপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সভা করেন জাকির হোসেন। সভা থেকে তিনি সরাসরি স্থানীয় কাউন্সিলার, তৃণমূল কংগ্রেসের জহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি অযোগ্যদের বাড়ি পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও তিনি তাঁর আত্মীয় পরিজনদেরও বাড়ি দিয়েছেন বলে বিধায়কের দাবি। অবৈধভাবে যারা আবাসের বাড়ি নিয়েছে, তাদের বাড়ির টাকা ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ও দুর্নীতিতে জড়িত কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে পুরসভা অভিযানের ডাক দেন বিধায়ক। বিধায়কের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পুরসভায় অনাস্থা ডাকতেই কাউন্সিলারদের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে পুর কর্তৃপক্ষের দাবি।

Advertisement

বিধায়ক বলেন, আবাস নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে গিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তির নামও পেয়েছি আমরা। কাউন্সিলার তার আত্মীয়দের ও মোটা টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের বাড়ি পাইয়ে দিয়েছে। এতে যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছে ও সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। দোষীদের ছাড়া হবে না। চেয়ারম্যান বলেন, দলীয় প্রোগ্রামে কাউকে ডাকা হয়নি। বিরোধী দলের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিটিং করেছেন। মূলত তিনি আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতেই কাউন্সিলারদের ভয় দেখিয়ে, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এসবের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনও কাউন্সিলার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
এদিনের সভা থেকে বিধায়ক আবাসের সুবিধা নেওয়া অযোগ্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন। অযোগ্যদের মধ্যে কাউন্সিলারের ভাই, বেয়াই সহ আত্মীয় পরিজন রয়েছে বলে দাবি। এমনকী সরকারি চাকরিজীবী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরও আবাসের ঘর দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি না করলেও বাড়ির টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়েছে কাউন্সিলার। অযোগ্যদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিধায়ক। বাড়ির টাকা ফিরিয়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে জানান। পুনরায় তদন্ত করে অযোগ্যদের বাড়ির টাকা আটকে দেওয়া হবে বলেও জানান বিধায়ক। এ বিষয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের সতর্কও করেন জাকির সাহেব। এছাড়াও পুরসভার ৬ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আবাসের তদন্ত করে দেখতে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা সংসদ সদস্য খলিলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মধ্যে ১২ নম্বর ওয়ার্ড ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীর নিজস্ব ওয়ার্ড বলে জানা গিয়েছে। 
কাউন্সিলার জহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উনি যে নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন তারা আমার আত্মীয় নন, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাত্র। আবাসে কোনও অনিয়ম হয়নি। এতগুলো বাড়ির মধ্যে দু'-একজন কর্মী ও বা ঘটনাক্রমে তাদের পরিবারের সদস্যকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে।
ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, একটা দলীয় প্রোগ্রামে দলের কাউকে জানানো হয়নি। এমনকী একটা দলের পতাকা পর্যন্ত নেই! পুরসভার বাইরের লোক নিয়ে এসেছে, অধিকাংশই তারা বিরোধী দলের লোক। কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত হোক, আইন আইনের পথেই চলবে। পুরসভার বিরোধী দলনেতা সিপিএমের সুবীর রায় বলেন, ওদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। তবে যা হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের ভালো হচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ