সংবাদদাতা, ঘাটাল: সরকারি আবাস প্রাপক মহিলার স্বামীর নামে রয়েছে একটি পেট্রল পাম্প। তিনি আবার সম্পর্কে ক্ষীরপাই পুরসভার চেয়ারম্যনের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। সেই আত্মীয়ের নামে সরকারি আবাস যোজনার টাকা মঞ্জুর হল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই শহরজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা এনিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। বাড়ি প্রাপকের নাম জ্যোৎস্না পান। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর নামে সরকারি আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান দুর্গাশঙ্কর পান। তিনি বলেন, ওই ওয়ার্ডে জ্যোৎস্নাদেবীর নামে কোনও পাকাবাড়ি ছিল না। তাই তাঁর নামে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো টাকা এখনও পাননি।
জ্যোৎস্নাদেবীর স্বামী প্রভাত পানের জন্ম ক্ষীরপাই শহরে হলেও বর্তমানে তিনি কলকাতায় থাকেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে কলকাতাতেও তাঁদের বেশ কয়েকটি ব্যবসা রয়েছে। বেশ কয়েক বছর হল ক্ষীরপাই শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি একটি পেট্রল পাম্প করেছেন।
বর্তমানে প্রভাতবাবুর পরিবার কলকাতা থেকে যাতায়াত করলেও জ্যোৎস্নাদেবীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ওয়ার্ডেই তাঁর জায়গার উপর ভগ্নপ্রায় একটি মাটির বাড়ি ছিল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ওই ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর স্ত্রীর নামে মাটির বাড়িটি দেখিয়েই তাঁকে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হয়েছে।
জ্যোৎস্নাদেবীর নামে আবাস যোজনার বাড়ি মঞ্জুর হওয়ার পরই তিনি স্বামীর পেট্রল পাম্পের পাশেই আবাস যোজনার বাড়িটি তৈরি করেন। সরকারি আবাসের টাকার সঙ্গে প্রভাতবাবু ব্যক্তিগত টাকা যোগ করে দ্বিতল বাড়ির ভিত গড়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে প্রথম তলার নির্মাণের কাজ শুরু করেন জ্যোৎস্নাদেবী। দ্বিতীয়তলার কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই বাড়িতে আবাসের সরকারি বোর্ড লাগানো রয়েছে।
প্রভাতবাবু বলেন, আমার ক্ষীরপাই পুরসভা এলাকায় নিজের বা স্ত্রীর নামে কোনও পাকাবাড়ি নেই। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে মাটির বাড়িটি ছিল, তা অত্যন্ত ভগ্নপ্রায়। সেখানে থাকার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সেজন্য আমরা এই শহরে দিদির বাড়িতে থাকি। আর পেট্রল পাম্পটিও আমার একার মালিকানাতে নেই। যৌথভাবে চালানো হয়, ব্যবসাও ভালো চলে না। ব্যাঙ্কে অনেক ঋণ রয়েছে। পাশাপাশি জ্যোৎস্নাদেবীর সাফাই, আমার ওখানে একটি মাটির বাড়ি ছিল। সেখানেই থাকতাম। নিয়ম অনুযায়ী হাউস ফর অল প্রকল্পের জন্য সবাই আবেদন করতে পারেন। সেই মতো আমিও আবেদন করেছিলাম। পুরসভা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সেই বাড়ির প্রেক্ষিতেই আবাসের বাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি রাজনীতি শুরু করেছে। ওই শহরের বিজেপি নেতা কার্তিক সরেন বলেন, যে সব গরিব মানুষের বাড়ি পাওয়ার কথা এমন প্রায় ১১০০ পরিবার বাড়ি পায়নি। অথচ যাদের বাড়ি পাওয়া কথা নয় এবং সঙ্গতিপূর্ণ পরিবার, পুরসভা তাদের বাড়ি দিচ্ছে। নিজস্ব চিত্র