সংবাদদাতা, কান্দি: উচ্চ মাধ্যমিকে দাদাকে টেক্কা যমজ ভাইয়ের। কান্দির রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে অভিষেক দাস ৪৮৮ পেয়ে মেধা তালিকার দশম স্থান অধিকার করলেন। আর দাদা অরুনাভের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। যদিও মাধ্যমিকে দাদা অরুনাভ ভাই অভিষেকের চেয়ে ২ নম্বর বেশি পেয়েছিলেন। তবে দুইজনের আগামী লক্ষ্য একই। উভয়েই বাবার মতন চিকিৎসক হয়ে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত হতে চান। কান্দি শহরের ছাতিনাকান্দি এলাকার বনিকপাড়ায় বাড়ি দুই ভাইয়ের। বাবা অমিতাভ দাস বহরমপুরের জেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসক। মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান না পেলেও দুই ভাই ভাল ফল করেছিলেন। দাদা অরুনাভ পেয়েছিলেন ৬৮২ আর ভাই অভিষেক পেয়েছিলেন ৬৮০। তাঁদের ফলাফল এলাকায় নজর কেড়েছিল। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে দাদাকে টেক্কা দিয়ে প্রথম দশে ঢুকে বাজিমাত করল ভাই অভিষেক। মাত্র ১ নম্বরের জন্য দাদা অরুনাভ ঢুকতে পারলেন না প্রথম দশে। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে ভাই অভিষেক পেয়েছেন বাংলায় ৯৬, ইংরেজিতে ৯৬, কেমিস্ট্রি ৯৬, অঙ্কে ১০০, ফিজিক্স ১০০ ও বায়োসায়েন্সে ৯৬। অপরদিকে দাদা অরনাভ পেয়েছেন। বাংলায় ৯০, ইংরেজিতে ৯৫, কেমিস্ট্রি ৯৮, অঙ্কে ৯৮, ফিজিক্স ৯৯ ও বায়োসায়েন্সে ৯৭। ওই দুই ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুইজন এক ঘরে একসাথে একই সময়ে পড়াশুনা করেন। দুইজনের ক্ষেত্রেই মাধ্যমিকে চারজন করে ও উচ্চ মাধ্যমিকে ছয়জন করে প্রাইভেট টিচার ছিলেন। উভয়ের ক্রিকেট খেলায় ঝোঁক রয়েছে। দুইজনেই একই গল্প ও কবিতা পড়তে ভালবাসেন। দুইজনেরই আগামীতে চিকিৎসক হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার শহরে দুই ভাই দুটি সাইকেল নিয়ে একই সঙ্গে বেড়াতে যান। অভিষেকের বাবা অমিতাভ দাস জানান, আমার দুই ছেলে একে অপরের হরিহর আত্মা। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারে না। কিছু করতে গেলে দুইজনেই আলোচনা করে। মাধ্যমিকের বড় ছেলে ছোট ভাইয়ের থেকে এগিয়ে থাকলেও, উচ্চ মাধ্যমিকে উল্টোটা হল। তবে ভাইয়ের ফলে খুশি দাদা। ওদের ফলাফলে পরিবারের সকলেই খুশি। এদিন অভিষেক জানান, খুব ভাল হত যদি দাদা আর ১ নম্বর পেতেন। তবে আমরা দুইজনেই চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমার ফলে দাদা খুশি। যদিও দাদা অরুনাভ বলেন, ভাই প্রথম দশে ঢুকতে পেরেছে এটা আমাদের সকলের গর্বের। আমি যেটা পারলাম না। ভাই সেটা করে দেখিয়েছে। ওই ছাত্রদের মা সারদা দেবী বলেন, আমার দুই ছেলেই ভাল ফল করেছে। এতে আমরা সকলেই খুশি। তবে বড় ছেলেও যে প্রথম দশে ঢুকতে পারবে না সেটা বলা যাচ্ছে না। পরবর্তী পদক্ষেপ স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে। এবিষয়ে কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওঁদের দুই ভাইয়ের উপর আমাদের ভরসা ছিল যে ভাল কিছু করে দেখাবে। সেটাই করে দেখিয়েছে ওঁরা। ওঁদের নিয়মানুবর্তিতা ভাল ফল এনে দিয়েছে।



