Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

কবচ প্রযুক্তি থেকে অটোমেটিক সিগন্যাল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সামলাতে আইটি প্রফেশনাল নিয়োগের ভাবনা রেলের

কবচ প্রযুক্তি থেকে অটোমেটিক সিগন্যালিং বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রেল লাইনে নজরদারি—উন্নত প্রযুক্তির জমানায় বদলে গিয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের পুরো ছবিটাই।

কবচ প্রযুক্তি থেকে অটোমেটিক সিগন্যাল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সামলাতে আইটি প্রফেশনাল নিয়োগের ভাবনা রেলের
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কবচ প্রযুক্তি থেকে অটোমেটিক সিগন্যালিং বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রেল লাইনে নজরদারি—উন্নত প্রযুক্তির জমানায় বদলে গিয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের পুরো ছবিটাই। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অবস্থা সামলাতে রীতিমতো দিশাহারা মন্ত্রক। আধিকারিকদের একটি বড় অংশের মত, আধুনিক রেল প্রযুক্তি সামাল দিতে আইটি প্রফেশনালের প্রয়োজন। নাহলে পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতিতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কয়েকটি জোনে সাময়িকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী নিয়োগ করা যায় কি না, তা আধিকারিকদের খতিয়ে দেখতে বলল রেল বোর্ড। তবে যাঁদেরই নিয়োগ করা হোক না কেন, তাঁদের কাজ করতে হবে রেলের প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করেই।

Advertisement

যদিও এহেন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট বিতর্কও ছড়িয়েছে। কারণ রেল বিশেষজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে, নিজের কর্মচারীদের উপরই কি তাহলে আস্থা রাখতে পারছে না মন্ত্রক? সার্বিক ঘটনাক্রমকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে যে চারটি জোনে এই পরিকল্পনাকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে রেল বোর্ড, সেগুলি হল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল, পূর্ব উপকূলীয় রেল, দক্ষিণ পশ্চিম রেল এবং পশ্চিম রেল। এই চারটি জোনের কমপক্ষে ১৫টি করে স্টেশনে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে চাইছে মন্ত্রক। কোন কোন স্টেশনে এহেন বন্দোবস্ত চালু করা হবে, তা চূড়ান্ত করার ভার থাকবে সংশ্লিষ্ট জোনগুলির উপরই। 
এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাইরে থেকে সাময়িকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী নিয়ে এসে কাজ শুরু করানোই লক্ষ্য নয়। রেল চাইছে, মন্ত্রকেরই আওতাধীন যেসব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের কাজে দক্ষ, এমন কার্যালয় থেকেই দক্ষ কর্মীদের নিয়ে আসতে। রেলমন্ত্রকের আওতাধীন এমন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল চারটি—ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (ইরকন), রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল), কোঙ্কন রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেড (কেআরসিএল) এবং রেলটেল। 
প্রাথমিক পরিকল্পনামতো রেল জানিয়েছে, প্রস্তাবিত টেকনিক্যাল টিমে দু’জন সুপারভাইজার বা ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার থাকবেন। তাঁদের আওতায় কাজ করবেন আরও পাঁচজন টেকনিশিয়ান। পুরো কাজের দায়িত্বে থাকবেন রেলমন্ত্রকের প্রযুক্তিবিদরাই। অটোমেটিক ব্লক সিগন্যালিং, ইন্টার-মিডিয়েট ব্লক সিগন্যালিং, ইন্টারলকিং অব লেভেল ক্রসিং গেটসের মতো একাধিক প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরা।

সম্পর্কিত সংবাদ