Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেশায় অটো চালক, দৈনিক আয় মাত্র ২০০ টাকা, জিএসটি বাবদ ১১ কোটি মেটানোর নির্দেশ

পেশায় টোটো চালক। দৈনিক আয় গড়ে ২০০ টাকা। সেই টোটো চালককে কেন্দ্রীয় সরকারের সিজিএসটি অ্যান্ড সি-এক্স কমিশনের খড়্গপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব সেন্ট্রাল জিএসটির পক্ষ থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকার বকেয়া জিএসটি মেটানোর নোটিস ধরানো হয়েছে।

পেশায় অটো চালক, দৈনিক আয় মাত্র ২০০ টাকা, জিএসটি বাবদ ১১ কোটি মেটানোর নির্দেশ
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: পেশায় টোটো চালক। দৈনিক আয় গড়ে ২০০ টাকা। সেই টোটো চালককে কেন্দ্রীয় সরকারের সিজিএসটি অ্যান্ড সি-এক্স কমিশনের খড়্গপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব সেন্ট্রাল জিএসটির পক্ষ থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকার বকেয়া জিএসটি মেটানোর নোটিস ধরানো হয়েছে। বুধবার ডাক মাধ্যমে ওই নোটিস পেয়ে প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম ঘাটাল থানার মনশুকা খরকপুরের বাসিন্দা ওই টোটো চালক বাপিলাল সামন্তের। তিনি বলেন, ‘আমাকে জিএসটির জন্য মোট ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৬০ টাকা অবিলম্বে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি কিছুই বুঝে উঠতে না পেরে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করি।’ ঘাটাল আদালতের আইনজীবী দেবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি তো কাজগপত্র দেখেই তাজ্জব। ওঁর তো কোনও ব্যবসাই নেই। ওঁর নামে জিএসটির নোটিস আসে কী করে? তাই  জিএসটি দপ্তরকে আমি চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি।’ ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দা চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শঙ্কর ঘোড়ই বলেন, ‘জিএসটি নিয়ে এই ধরনের   দু’একটি নোটিসের বিষয় আমারও নজরে এসেছে। ওঁদের প্যান, আধার দিয়ে কোনও অসাধু চক্র জিএসটি নম্বর জেনারেট করে ওই কাজ করেছে। সাইবার ক্রাইম, পুলিস এবং জিএসটি দপ্তরে অভিযোগ জানালে এর সূত্র বেরিয়ে আসবে।’

Advertisement

বাপি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের ছেলে। নিজের নামে কোনও জমিজমা নেই। স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে যে বাড়িতে থাকেন সেটাও তার বাবার নামে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে সোনার কাজে চলে যান। অন্যের দোকানে খুব কম মাইনের বিনিময়ে সোনার কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। বছর চারেক হল বাড়িতেই রয়েছেন। বাড়িতে প্রথম প্রথম ঘাটাল শহর থেকে অর্ডার নিয়ে গিয়ে সোনার গয়না তৈরি করতেন। সেটাও ভালো না চলার ফলে বর্তমানে টোটো চালান।
বাপি বলেন, ‘২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ কয়েকজন জিএসটি দপ্তরের আধিকারিক আমাকে এসে বলে আমার তিন কোটি টাকার মতো জিএসটি বাকি রয়েছে। আমি তাদের বলি, আমি জিএসটির নম্বরের জন্য কখনও আবেদন করিনি। তাঁরা আমার বাড়ির সব কিছু দেখে কিছু না বলেই চলে যান। ২০২৪ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি ফের ১০ জনের একটি টিম আসে। সঙ্গে তখন ঘাটাল থানার পুলিসও ছিল। তারা তখন আমাকে পাঁচ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার, ৩৭০ টাকা জিএসটির  বাকি রয়েছে বলে জানায়। তখনও আমি একই কথা বলতে কয়েকটি জায়গায় সই করিয়ে নিয়ে তাঁরা চলে যান।’ তিনি এনিয়ে আর মাথা ঘামাননি। এবার প্রায় ১১ কোটি টাকার জিএসটি বাকি রয়েছে বলে বুধবার ডাক মাধ্যমে চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়েছে, টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাপি বলেন, ‘ওটা পেয়েই আমার মাথা ঘুরে গিয়েছে।’
ওই যুবক জিএসটির জন্য আবেদন করেননি। তবে, তিনি জানান, যখন কোনও দোকানে কাজে যোগ দিতাম তখন আধার কার্ড, প্যান কার্ড দিতে হয়েছিল। এছাড়াও ২০২২-২১ সালে ব্যক্তিগত ঋণের জন্য তিনি অনলাইনে প্যান, আধার আপলোড করেছিলেন। পরে সেই সাইটটির আর হদিশ পাওয়া যায়নি। সিএ শঙ্করবাবুর অনুমান, ওখান থেকেও প্রতারিত হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জিএসটি বিভাগ এবং পুলিস তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ