Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেডিক্যালে রেডিওথেরাপি চালু করতে স্বাস্থ্যদপ্তরে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপির কোনও ব্যবস্থা নেই। রোগী ও পরিবারের সদস্যদের তাই কলকাতা ও ভিনরাজ্যে ছুটতে হচ্ছে।

মেডিক্যালে রেডিওথেরাপি চালু করতে স্বাস্থ্যদপ্তরে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে কর্তৃপক্ষ
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপির কোনও ব্যবস্থা নেই। রোগী ও পরিবারের সদস্যদের তাই কলকাতা ও ভিনরাজ্যে ছুটতে হচ্ছে। রেডিওথেরাপি চালু করার লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এম এস ভিপি অনুরুপ পাখিরা বলেন, হাসপাতালে যথাসম্ভব ক্যান্সারের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা রয়েছে। রেডিওথেরাপির চিকিৎসা পরিষেবা যাতে দেওয়া যায় তার চেষ্টা চলছে। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে খুব শীঘ্র প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মঙ্গল ও শুক্রবার ক্যান্সার ওপিডি (বহির্বিভাগ) চালু থাকে।  ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ছাড়াও অন্য বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীদের দেখেন। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হওয়ার পরেও ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ রেডিওথেরাপি এখনও চালু করা যায়নি। এমনকি এমআরআই মেশিন পর্যন্ত নেই।  চিকিৎসায় ক্যান্সার নির্ণয়,অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি করা ভীষণভাবে আবশ্যক। রেডিওথেরাপির পরিকাঠামোর অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতা ও ভিনরাজ্যে ছুটতে হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্সার বিভাগে একজন চিকিৎসক অধ্যাপক ও একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন। ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, জরায়ুর ক্যান্সারের চিকিৎসা বিনামূল্যে হাসপাতালে করা হয়। হাসপাতালে ‘ডে -কেয়ার’ চিকিৎসার পরিষেবা রয়েছে। দূরারোগ্য  ক্যান্সার রোগীদের জন্য ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ বা ব্যথা নিরাময় কেন্দ্র চালু রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে মেডিক্যাল কলেজে ৪২ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী কেমোথেরাপির কোর্স সম্পূর্ণ করেছেন। কেমোথেরাপি করার সময় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রতিরোধের চিকিৎসার পরিকাঠামো  হাসপাতালে গড়ে ওঠেনি। রেডিওথেরাপির ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক বলেন, ‘ কার্ডিওলজি বিভাগ না থাকায় ‘ইকো কার্ডিওগ্ৰাফি’ করা যাচ্ছে না। কেমোথেরাপি করার আগে রোগীদের ইকো কার্ডিওগ্ৰাফি করা দরকার। পরিকাঠামো না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সেই পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা পরিষেবাও না থাকায় ব্লাড ক্যান্সারের আক্রান্ত রোগীদের ঘুরে যেতে হচ্ছে। সিটি স্ক্যান বিভাগেও সবধরনের ক্যান্সার নির্ণয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। রেডিওথেরাপির যন্ত্র বসানোর জন্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় ২০ কোটি টাকার খরচ পড়বে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর  ব্যবস্থা না নিলে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছেন। ঝাড়গ্রাম শহরে বাসিন্দা ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত এক ব্যক্তি বলেন, রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসা কলকাতার দু'টি মেডিক্যাল কলেজ ছাড়া আর কোথাও হয়না। চিকিৎসার জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে আমার মতো অনেককে কলকাতায় যেতে হচ্ছে। হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা পরিষেবা  চালু হলে উপকৃত হব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ