Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতা, প্রধান এবং উপপ্রধানের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল

গত কয়েকদিন ধরেই পুরুলিয়া ২ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের টেন্ডারকাণ্ড নিয়ে হইচই চলছে।

নেতা, প্রধান এবং উপপ্রধানের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা,পুরুলিয়া: গত কয়েকদিন ধরেই পুরুলিয়া ২ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের টেন্ডারকাণ্ড নিয়ে হইচই চলছে। তারমাঝেই সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতির সঙ্গে প্রধানের কথোপকথোনের অভিও ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিওতেই শোনা যাচ্ছে প্রধানকে টেন্ডার আটকানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন এক বিজেপি নেতা। ভাইরাল ওই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান পত্রিকা। 

Advertisement

ভাইরাল অডিওতে শোনা যাচ্ছে বিজেপি পরিচালিত রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবন্ধু মাহাত বিজেপি নেতাকে বলছেন, টেন্ডার তো বাতিল হচ্ছে। কতদিন আর ঝোলাবে। ওই টেন্ডার বিডিও বলেছে বের করতেই হবে। অপরদিকে থাকা বিজেপি নেতা প্রধানকে বলছেন, টেন্ডার বের করা যাবে না। এসডিও স্যারও বারণ করেছে। সৌরভদাও বারণ করেছে। ওই বিজেপি নেতা হুমকির সুরে প্রধানকে বলেন, কেন টেন্ডার করেছ? টেন্ডার করা যাবে না। অসম্ভব। ওরা না বেরলে টেন্ডার হবে না। ওখানেই তো গেমটা আছে। তুমি বুঝতে পারছ না। তোমাকে ভুল বোঝাচ্ছে। প্রধান তাঁকে ফোনেই জানান, বিডিও বলেছেন তাই টেন্ডারের কাগজে সই করেছি। প্রধানের সঙ্গে বিজেপির নেতার কথোপকথনের আরও একাধিক অডিও ভাইরাল হয়েছে। ওইসব অডিও ভাইরালের পরই দলের নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান দীনবন্ধু মাহাত। তিনি শুক্রবার সব অডিও শোনার পর বলেন, ওই অডিওর একটি গলা তাঁর।অন্যটি বিজেপির যুব নেতা সুবর্ণ পাঠকের। তিনি বলেন, সুবর্ণ সহ পার্টির ছেলেরাই তো চাপ দিচ্ছে। কখনও ফোন করে,কখনও অফিসে এসে চাপ দিচ্ছে। অফিসে টেবিল থাবড়ে চাপ দিচ্ছে। দলের নেতারা আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে কাজ করাচ্ছে। যা বিল করা হয়েছে তা তো নির্মাণ সহায়করা করেছে। তারপর আমি সই করি। ঠিকাদারদের থেকে টাকা নেওয়ার কোনও কথা আমি বলিনি। দুর্নীতি কোনটা তা বুঝতে পারছি না। প্রধান আরও বলেন, সুবর্ণ পঞ্চায়েতের কেউ নয়। তা সত্ত্বেও সবাই ওর কথায় চলছে। আমাকে কিছু করতে দেয় না। গোটা বিষয়টি তো দলকে জানিয়েছি। বিজেপি নেতা সুবর্ণ পাঠক বলেন, ভাইরাল অডিওর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতির। ওই পঞ্চায়েতের কর্মীরা দুর্নীতিতে যুক্ত। প্রধানকে ভুল বুঝিয়ে সই করানো হচ্ছে। পঞ্চায়েতের সদস্য না হয়েও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন কিনা, জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, দলের প্রধান এবং বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত কোন পথে পরিচালিত হচ্ছে তা তো দেখতেই হবে। দল যা দায়িত্ব দিয়েছে তাই করেছি।
আরও একটি অডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ওই অডিওতে শোনা যাচ্ছে, এক ঠিকাদার সংস্থা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার পরেও কাজ করতে না চাওয়ায় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন উপপ্রধান। পঞ্চায়েত সূত্রে জানাগিয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি ঠিকাদার সংস্থা ২২টি টিউবয়েল খননের জন্য রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অনলাইন টেন্ডারে অংশ নেন। তিনি কাজটি পেয়েও যান। ওয়ার্ক অর্ডারও পান। কিন্তু তারপর তিনি কাজ করতে পারবেন না বলে পঞ্চায়েতকে লিখিত ভাবে জানান। তারপর অন্য সংস্থাকে ওই কাজটি দেওয়া হয়। কাজ পেয়েও ছেড়ে দেওয়ায় ফোনে ঠিকাদার সংস্থার কর্মীকে উপপ্রধান অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধরেরও হুমকি দেন,যা অডিওতে শোনা যাচ্ছে। উপপ্রধান অমিত অধিকারী প্রথমে জানান, ওই ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। অডিওর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর নাম করে ওই ঠিকাদারকে অন্য কেউ হুমকি দিয়েছে।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ওই ঠিকাদার ষষ্ঠীচরণ নস্কর ফোনে বলেন, উপপ্রধান ফোনে অনেক কথা বলেছিলেন। তা আর বলতে চাইনা। বিষয়টি মিটে গিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণেই কাজ থেকে সরে এসেছিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ