সংবাদদাতা, কান্দি: শুধু চা বিস্কুটেই শেষ নয়। পাড়া বৈঠকে যোগ দিলে মিলছে চানাচুর মুড়ির সঙ্গে শসাও। সম্প্রতি তৃণমূলের ২১শে জুলাই কর্মসূচীকে সামনে রেখে খড়গ্রামে শুরু হয়েছে পাড়া বৈঠক। পড়ন্ত বিকেলের ওই বৈঠকে কর্মীরা যোগ দিলে মিলছে ওইসব হালকা টিফিন। তাই পিকনিকের মেজাজে জমে উঠছে পাড়া বৈঠকগুলি।
মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে স্থানীয় ইন্দ্রাণী গ্রামের একটি বড় ছাদে তেমনই পাড়া বৈঠকে জমা হয়েছিলেন বহু কর্মী। বৈঠকের প্রথম ঘণ্টা ২১শে জুলাইয়ের ইতিহাস ও ধর্মতলা যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। টানা একঘণ্টার বক্তব্য শুনতে শুনতে অনেকের তখন ক্লান্তিভাব এসে পড়ে। ঠিক সেই সময় এক প্রবীণ দলীয় কর্মী সকলের জন্য চা ও বিস্কুট নিয়ে আসেন। তাতে কিছুটা উজ্জীবিত হন কর্মীরা। তবে এর ১০ মিনিট পরেই কাগজের প্যাকেটে চলে আসে চানাচুর ও সর্ষের তেল মাখানো মুড়ি। সঙ্গে অপর একজন থালায় শসা রেখে কর্মিদের সামনে ধরছেন। এমন অবস্থায় বৈঠকের মধ্যেই কিছুটা হাসিঠাট্টা ও গোলমেলে পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে কয়েক মিনিটের জন্য সকলের মুখেই হাসি ফুটে উঠে। দলের পাড়া বৈঠকে এমন আপ্যায়ন হতে পারে অনেকেই যেন ভাবতে পারছেন না।
এরপর আরও ঘণ্টাখানেক ধরে চলে ২১শে জুলাইয়ের ধর্মতলা যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কিত আলোচনা। খড়গ্রাম উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা কিছু নতুনত্ব করতে চেয়েছিলাম। কর্মীরা শুধু বক্তব্য শুনে ঝিমিয়ে পড়বেন এটা হতে দিইনি। তাই সামান্য খরচে চা ও বিস্কুটের সঙ্গে মুড়ি চানাচুরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে একেবারে পিকনিকের মেজাজ তৈরি হয়েছিল। আগামী পাড়া বৈঠকগুলিতেও এমন ব্যবস্থা থাকবে।
ইন্দ্রাণী গ্রামের দলীয় কর্মী আশরাফুল হোসেন বলেন, একেবারে চমকে দেওয়ার মতন ব্যাপার ঘটে গিয়েছিল। মিটিং মিছিলে চা ও বিস্কুট পাওয়া যায় এটা আমরাও জানি। কিন্তু মুড়ি চানাচুরের মতন লোভনীয় জিনিসেরও যে ব্যবস্থা করা হবে তা আমরা ভাবতে পারিনি। বেশ আনন্দেই কেটেছে পাড়া বৈঠকের সময়টা।
খড়গ্রাম ব্লক তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ২১ শের জুলাইয়ের কর্মসূচীকে সামনে রেখে বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে পাড়াবৈঠক। পড়ন্ত বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলি চলছে। তাতে কর্মীরা কিভাবে ধর্মতলা যাবেন। রাস্তায় সমস্যা হলে কী করবেন। এসব আলোচনা করা হচ্ছে। খড়গ্রাম বিধায়ক আশিষ মার্জিত বলেন, এখান থেকে অন্তত পাঁচ থেকে সাত হাজার কর্মী কলকাতায় যাবেন। তাঁরা বাসে ও ছোট গাড়ি ছাড়াও ট্রেনেও যাবেন।তিনি আরও বলেন, পাড়া বৈঠকে কর্মিদের জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা থাকছে না। চা বিস্কুটের সঙ্গে একটু চানাচুর মুড়ি ও শসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কর্মীরা এই ব্যবস্থাকে এতটা ভালভাবে নেবেন তা জানা ছিল না। খড়গ্রাম ব্লকের ইন্দ্রাণী গ্রামে তৃণমূলের পাড়া বৈঠক। নিজস্ব চিত্র