Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খোয়াই হাট সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে বিক্রির চেষ্টা, রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হতেই টনক

স্থানীয়দের অভিযোগে বিষয়টি জানতে পেরে সেই রাস্তার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন।

খোয়াই হাট সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে বিক্রির চেষ্টা, রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হতেই টনক
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি খোয়াই হাট সংলগ্ন পর্যটন দপ্তরের জায়গা দখল করে বেআইনি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠল জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। ওই এলাকার সরকারি জমি বিক্রি করতে অবৈধভাবে দিনেদুপুরে রাস্তা করছিল মাফিয়ার দল। স্থানীয়দের অভিযোগে বিষয়টি জানতে পেরে সেই রাস্তার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন। পাশাপাশি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং বোলপুর পুরসভাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নোটিস জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সোনাঝুরি খোয়াই হাট সংলগ্ন সরকারি জমি দখলের ঘটনা নতুন নয়। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইতিমধ্যেই সেই সরকারি জমির উপর অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তরাঁ। মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসন যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ওই এলাকায় কোনও সরকারি জমি অবশিষ্ট থাকবে না, এমনটাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা। এমতাবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে বেআইনি রাস্তার কাজ বন্ধ করতে বোলপুর পুরসভা ও ভূমি সংস্কার দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Advertisement

সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট জনপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই এলাকার জমির দাম এখন আকাশছোঁয়া। তাই মাফিয়াদের কুনজরে পড়েছে সরকারি জমি। হাটে যাওয়ার রাস্তায় শালবনের ঠিক আগে রয়েছে পর্যটন ও সেচদপ্তরের জমি। সেই জমিগুলিতে এযাবৎ আদিবাসীরা বংশানুক্রমে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু জমি মাফিয়ারা সেই জমি দখল করে ‘প্লট সিস্টেমে’ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গাটিকে কেন্দ্র করে অভিযোগ, সেখানে খাতায়-কলমে রাস্তা না থাকায়, মাফিয়ারা চেষ্টা করেও ওই জমি বিক্রি করতে পারছিল না। সরকারি ম্যাপে উল্লেখ রয়েছে পর্যটন দপ্তর ও সরকারি জমি। অথচ সেই জমিতেই কংক্রিটের রাস্তা বানানোর  চেষ্টা করছিল বেশ কিছু জমি কারবারি ও মাফিয়া। কারণ রাস্তা দেখাতে পারলেই হাট সংলগ্ন জমিগুলি প্লট করে বিক্রি করতে সমস্যা হবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ ভূমিদপ্তরের একাংশ অসাধু আধিকারিকদের সাহায্য নিয়ে প্রথমে জমি মাফিয়ারা জমির চরিত্র বদল করে। এরপর তা লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছে বলে স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগ। ওই এলাকার বাসিন্দা রবিলাল মুর্মু, রাম সোরেন অভিযোগের সুরে বলেন, এভাবেই দিনের পর দিন বনদপ্তর, সেচদপ্তর সহ সরকারি খাস ও পাট্টা জমি দখল করে একের পর এক রিসর্ট, বহুতল, এমনকী বিলাসবহুল বাড়িও তৈরি করছেন বহিরাগতরা। অথচ প্রশাসনের নজর নেই। 
সম্প্রতি একই কায়দায় পর্যটন দপ্তরের ওই জমিতে রাস্তা করে জমি দখল করার চেষ্টা করছিল মাফিয়ারা। বিষয়টি জানতে পেরেই সেই বেআইনি রাস্তার কাজ বন্ধ করে ভূমিদপ্তর ও পুরসভাকে নোটিস জারি করেছে প্রশাসন। তার প্রেক্ষিতে বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সব্যসাচী ঘটক বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশে জায়গাটি মাপজোক করা হয়েছে। তার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠানো হয়েছে।’ পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেন, ‘সরকারি জায়গা যেভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, তা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। পুরসভা বিষয়টি তদন্ত করে দেখে খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, ‘বিষয়টি নজরে এসেছে। কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চেয়ে মহকুমা প্রশাসনকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ