সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টা। ভল্ট ভাঙতে না পারলেও ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা একাধিক সিসি ক্যামেরা ও হার্ড ডিস্ক নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নলহাটি থানার কুরুমগ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা এই ঘটনার পিছনে এলাকায় নেশার বাড়বাড়ন্ত ও তা বন্ধে পুলিশি নিস্ক্রয়তাকে দায়ী করেছেন।
কুরুমগ্রামের মিত্রপুর হাইস্কুলের বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে চলে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা। সোমবার ব্যাঙ্ক খোলার পর কর্মীরা দেখেন, ভিতরের কাগজপত্র লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে রয়েছে। এরপরই তাঁরা দেখেন, পিছনের দিকের জানালা ভাঙা। ভিতরে থাকা সিসি ক্যামেরা ও হার্ড ডিস্ক গায়েব। ঝড়ের গতিতে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমান। ব্যাঙ্কের শাখা প্রবন্ধক ওমপ্রকাশ মির্ধা বলেন, দুষ্কৃতীরা হাইস্কুলের গেট দিয়ে ঢুকে পিছনের জানালা ভেঙে ব্যাঙ্কে ঢোকে। ভল্ট খুলতে পারেনি। তবে ধরা পড়ার ভয়ে সিসি ক্যামেরা ও হার্ড ডিস্ক খুলে নিয়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাতে ব্যাঙ্কে কোনও নিরাপত্তা রক্ষী থাকে না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চুরির চেষ্টা হয়েছে। দিন পাঁচেক আগে এই গ্রামে ড্রাগের নেশায় আসক্ত ছেলের দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় অশান্তির জেরে এক মহিলা আত্মহত্যা করেছেন। সেই সঙ্গে এলাকায় ছোটখাটো চুরি লেগেই রয়েছে। কিন্তু ব্যাঙ্কে ডাকাতির চেষ্টার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এলাকার বাসিন্দা তথা সমাজসেবী সঞ্জীব সিনহা বলেন, এই চুরির পিছনে রয়েছে নেশার রমরমা। স্কুলের কাছেপিঠেই বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, কোরেক্স ও হেরোইনের মতো নেশার দ্রব্য। দিনের আলোতেই হেরোইন হাতবদল হয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে নেশাড়ুরা। দিন কয়েক আগেই খেলার মাঠ থেকে কোরেক্স সহ কয়েকজন যুবককে ধরে পুলিশ। কিন্তু তারপরও প্রকাশ্যে চলে এই কারবার। হাতের নাগালে পেয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ তামাক ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিশোর তরুণদের মধ্যেও নেশার প্রবণতা বাড়ছে। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, প্রতিনিয়ত বাইরে থেকে কয়েকজন যুবক এসে হেরাইন ও কোরেক্স সিরাপ সরবরাহ করে যায়। আর বিড়ি সিগারেটের দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। পাশের সরধা গ্রামের মোড়ের একটি দোকান কোরেক্স সিরাপ মজুত করে অবাধে নেশার কারবার চালাচ্ছে। দীর্ঘ দিন অন্যায় চলতে দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকা পুলিশ-প্রশাসনের পুরনো রোগ। বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলা মদ ও মাদকের ঠেক এই নিষ্ক্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ। পুলিশ মাঝেমধ্যে হানা দেয়। কিন্তু ‘নিয়মিত’ হানার পরেও যদি কোনও এলাকার চিত্র না পাল্টায়, তবে নিরাপত্তা দেবে কে? না কি ধরেই নিতে হবে আগামী দিনেও জঙ্গলের শাসনই চলবে, সুবিচার চেয়েও ফল মিলবে না। ঠেকগুলিতে নিছক মদ খেয়ে মারামারি, গালিগালাজ হয় না। এ এক অন্ধকার সাম্রাজ্য, যা বাসিন্দাদের বিপন্ন করে তুলেছে। নেশার জন্য অধিকাংশ বাড়িতে অশান্তি হচ্ছে। বাড়ছে আত্মহত্যা। নেশার এই রমরমার পিছনে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, প্রায়ই ওই গ্রামে রেইড করা হয়। গ্রেফতার করে কেসও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সবকিছু পুলিশের উপর চাপালে হবে না। এলাকার শিক্ষিত সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।