নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দুই সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। বাধা দেওয়ায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি। স্বামী আব্দুল ওকিলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ আনলেন বারাসতের তরুণী জয়িতা দত্ত (নাম পরিবর্তিত)। তাঁর বক্তব্য, মেয়ের জন্মের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী। সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে চান জয়িতা। স্বামীর বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এমবিবিএস পড়তে গিয়ে ফেসবুকের সূত্রে আব্দুল ওকিলের সঙ্গে পরিচয় হয় জয়িতার। পরে দু’জনে বিয়ে করেন। ২০২৩ সালে বারাসত ফিরে আসেন তরুণী। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর হাসপাতালে তাঁর ছেলের জন্ম হয়। জয়িতার অভিযোগ, পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে ছেলেকে দেখার কথা বলে ভারতে আসে ওকিল। প্রথম দিকে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও মেয়ের জন্মের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শুরু হয় অত্যাচার। অভিযোগ, তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি বাড়িতে ভাঙচুরও করে স্বামী। দুই সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাতে বাধা দিলেই নির্যাতন বাড়ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, সন্তানদের বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে নিজের ধর্মীয় পরিবেশে বড়ো করতে চায় ওকিল। বাধা দেওয়ায় তাঁর গলা কেটে টুকরো করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। জয়িতার কথায়, ‘আমি স্বামীর থেকে আলাদা হতে চাই। দুই সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে চাই। ওর শাস্তিও চাই।’ জয়িতার পাশে দাঁড়িয়ে থানায় যান একাধিক হিন্দু সংগঠনের সদস্য। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে অর্পিতা দে পাল বলেন, ‘আমরা চাই, উনি যেন নিষ্কৃতি পান এবং সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারেন। এটি লাভ জেহাদের ঘটনা। দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।’ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে বারাসত থানার পুলিশ।



