নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মঙ্গলবার বারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে শিশু চুরির চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, সদ্যোজাতকে রেখে বাথরুমে গিয়েছিলেন মা। সেই সুযোগে হাসপাতালের দোতলায় প্রসূতি বিভাগে ঢুকে শিশুটিকে কোলে তুলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক মহিলা। কাপড় ও ওড়নায় শিশুটিকে মুড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের কিচেন কর্মীর নজরে পড়তেই ধরা পড়ে যান তিনি। ওই মহিলার সঙ্গী আরও এক মহিলাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম হাসিনা বেগম ও শবনম পারভীন। তাদের বাড়ি রহড়া থানার পাতুলিয়া এলাকায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রসূতি ওয়ার্ডে ভরতি এক মহিলা সদ্যোজাতকে রেখে শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় ওয়ার্ডে ঢুকে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন হাসিনা। শিশুটিকে কাপড় ও ওড়নায় মুড়িয়ে ওয়ার্ড থেকে বেরনোর সময় কিচেন কর্মী দেবযানী পাণ্ডের নজরে পড়ে বিষয়টি। দেবযানী বলেন, আমি টিফিন দিতে ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই মহিলার বাচ্চাটিকে কোলে নেওয়ার ধরন দেখে আমার সন্দেহ হয়। দূরে অন্য একটি বেডে বসে আমি লক্ষ রাখছিলাম। বাচ্চাটিকে ওড়না দিয়ে ঢেকে ওয়ার্ড বেরনোর চেষ্টা করায় আমি দৌড়ে গিয়ে আটকাই। শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে।
শিশুটিকে মহিলা তাঁর বোনের মেয়ে বলে দাবি করেন। কিন্তু তাঁকে আটকে সকলকে বিষয়টি জানাই। টিটাগড় থানার পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে হাসিনা ভেঙে পড়ে। শিশু চুরির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। পরে হাসপাতালের নীচ থেকে শবনমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে বহিরাগত কীভাবে ঢুকলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি এই চক্রে হাসপাতালের কেউ যুক্ত কি না, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
হাসপাতাল সুপার সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা তৎপর ছিলাম বলেই অভিযুক্তকে ধরা গিয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলেও কথা হয়েছে।