সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: গাড়ির টায়ারের টিউব সাধারণত নদীতে সাঁতার শেখা বা খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভরা তিস্তার বুক চিরে রাতের অন্ধকারে সেই টিউব এবার হয়ে উঠল গোরুপাচারের হাতিয়ার। শনিবার রাতে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিসের অভিযানে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ১৯টি গোরু উদ্ধার হয়েছে। যেগুলির গলায় বাঁধা ছিল গাড়ির টায়ারের টিউব। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, গোরুগুলিকে বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মণিভূষণ সরকারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝ বরাবর এলাকায় তিস্তা নদীর ধারে অভিযান চালায়। তল্লাশিতে দেখা যায়, গোরুগুলি গলায় টায়ারের টিউব বাঁধা অবস্থায় নদীর স্রোতে ভাসছে। সেসময় উদ্ধার হয় ১৯টি গোরু। পাচারকারীরা অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। যদিও তিন জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই এলাকায় গোরুপাচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বর্ষাকালে নদীর জল বেড়ে গেলে পাচারকারীদের জন্য কাজ সহজ হয়। আগে সাধারণত কলার ভেলায় গোরু বেঁধে পাচারের চেষ্টা হতো। কিন্তু পুলিসি নজর এড়াতে এবার পাচারকারীরা গাড়ির টিউব ব্যবহার করেছে। টিউবের কালো রং রাতের অন্ধকারে সহজে নজরে না পড়ায় পাচারকারীরা এই পদ্ধতিকে আরও নিরাপদ ভেবেছে বলে অনুমান।
পুলিস কর্তারা জানিয়েছেন, কলার ভেলায় গোরুপাচারের ঘটনা এর আগে বহুবার ধরা পড়েছে। কিন্তু গাড়ির টিউব গোরুর গলায় বেঁধে পাচারের ঘটনা এই প্রথম নজরে এল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার একাংশ মানুষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। তবে পুলিসের এই সাফল্যে তারা খুশি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মণিভূষণ সরকার বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।