সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: অসমের কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু এসএসবি’র নজরদারিতে ধরা পড়ে গেল নেপালের এক যুবক। উদ্ধার করা হয় ১৬ বছর বয়সি ওই কিশোরীকে। পরে অভিযুক্ত যুবককে খড়িবাড়ি থানার পুলিসের হাতে তুলে দেন ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কিতে কর্মরত এসএসবি’র ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সন্দেশ রাই। নেপালের মেচিনগরের বাসিন্দা সে। পুলিস ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জানতে পেরেছে, অসমের ওই কিশোরী বেঙ্গালুরুতে থাকত। তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু থেকে শিলিগুড়ি মহকুমার পানিট্যাঙ্কি হয়ে নেপালে প্রবেশের জন্য রওনা হয় সন্দেশ। শনিবার তারা শিলিগুড়ি পৌঁছয়। এরপর এনজেপি সংলগ্ন একটি হোটেলে তারা রাতে থাকে। রবিবার ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি হয়ে নেপালে ঢুকতে গিয়ে এসএসবি’র সন্দেহ হয়। তাদের জেরা করতেই পুরো বিষয়টি সামনে আসে।
এ নিয়ে এসএসবি’র এক আধিকারিক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অসমের ১৬ বছর বয়সি ওই নাবালিকা জানিয়েছে, সে তার দাদার সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে থাকত। সেখানে একটি হোটেলে সে পরিচারিকার কাজ করত। সেখানেই নেপালের ওই যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বিয়ের করবে বলে তাকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ইতিমধ্যে খড়িবাড়ি থানার পুলিস পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এসএসবি’র অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে নাবালিকাকে হোমে পাঠিয়েছে পুলিস। উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কিতে এসএসবি’র অভিযানে নেপালের ছয় তরুণী এবং এক নাবালিকাকে পাচারের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছিল এসএসবি। ঘটনায় পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বাসিন্দা দীপেশ গুরুং ও নেপালের বাসিন্দা জপন গুরুংকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ২৩ জুলাই পানিট্যাঙ্কিতে নেপালের এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। ওই ঘটনায় ধৃত মা ও ছেলে নাবালিকাকে নেপাল থেকে অরুণাচলপ্রদেশে নিয়ে যাচ্ছিল।